বসন্তের বাতাস এখন কলকাতার গঙ্গাপারে শিমুল-পলাশের রক্তিম উৎসব নিয়ে হাজির হয়েছে, কিন্তু ইডেন গার্ডেন্সের সবুজ গালিচায় সেই প্রাণের স্পন্দন উধাও। সেখানে এখন কেবলই এক ধূসর বিষণ্ণতা। আইপিএল ২০২৬ এর শুরুটা কলকাতার জন্য যেন এক দু:স্বপ্ন। চার ম্যাচে তিন হার এবং এক ম্যাচ পরিত্যক্ত নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে ধুঁকছে তারা।
কেন ইডেনের গ্যালারি আজ আর ‘করব, লড়ব, জিতব’ স্লোগানে আকাশ ফাটায় না? সেই নেপথ্য কারণগুলো ব্যবচ্ছেদ করলে বেরিয়ে আসে এক বিষণ্ণ চিত্র।
২০২৪ সালে কলকাতার সাফল্যে যে জাদুকরী স্পর্শ ছিল, তা ছিল গৌতম গম্ভীরের লড়াকু মানসিকতা। ২০২৬ এর এই ক্রান্তিলগ্নে ডাগআউটে সেই তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কের অভাব প্রতি মুহূর্তে অনুভূত হচ্ছে। মেন্টর হিসেবে গম্ভীরের প্রস্থানের পর কেকেআর যেন এক নাবিকহীন জাহাজ। ম্যানেজমেন্টের একের পর এক পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হয়েছে।

কলকাতার এবারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তাদের বোলিং বিভাগ। নিলামে চড়া দামে কেনা লঙ্কান পেসার মাথিশা পাথিরানা চোটের কারণে আসরের শুরুতে যোগ দিতে পারেননি। ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে মুস্তাফিজুর রহমানের নামও প্রত্যাহার করা হয়েছে। জাতীয় দলের পেসার হার্ষিত রানাও খেলতে পারছেন না চোটের কারণে।
ফিজ-পাথিরানার অনুপস্থিতিতে ডেথ ওভারে রান আটকানোর মতো কোনো বিশেষজ্ঞ বোলার নেই। ব্লেসিং মুজারাবানি বা বৈভব আরোরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও মুম্বাই বা হায়দ্রাবাদের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের সামনে তারা বড় ব্যবধানে রান বিলিয়ে দিচ্ছেন।
ইডেন মানেই একসময় ছিল নারিন-চক্রবর্তী ম্যাজিক। কিন্তু ২০২৬ মৌসুমে বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিন এখনও পর্যন্ত নিজেদের চেনা ছন্দে নেই। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা অনায়াসেই তাদের খেলছেন, যা মিডল ওভারে উইকেট শিকারের পথ বন্ধ করে দিয়েছে।

গৌতম গম্ভীর মেন্টর হিসেবে দল ছাড়ার পর অভিষেক নায়ারের অধীনে দলের রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ছাপ লক্ষ করা যাচ্ছে। সমর্থকদের অনেকের অভিযোগ, নিলামে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ব্যাটিং এবং বোলিং অর্ডারে বারবার পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে আজিঙ্কা রাহানের অধিনায়কত্ব নিয়েও।
নাইট রাইডার্সের এই বেহাল দশা কেবল একটি বা দুটি হারের গল্প নয়। এটি গোটা একটি সাম্রাজ্যের পতনের ধ্বনি। তবে ক্রিকেটে শেষ বলে কিছু নেই। ইতিহাস সাক্ষী, কলকাতা নাইট রাইডার্স ফিনিক্স পাখির মতো ছাই থেকে জেগে উঠতে জানে। কিন্তু ২০২৬ এর এই মহাদুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে হলে কেবল জাদুকরী ব্যাটিং-বোলিং নয়, প্রয়োজন হারানো আত্মবিশ্বাস আর অদম্য সাহসের পুনর্জন্ম।











