২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচি প্রকাশ করেছে আইসিসি। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরে বাংলাদেশের জন্য শুরু থেকেই অপেক্ষা করছে কঠিন এক পরীক্ষা—কারণ গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের তিনটিই অনুষ্ঠিত হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে, যেখানে টাইগারদের রেকর্ড ভয়ংকর রকমের হতাশাজনক।
ইডেনে বাংলাদেশের খেলা ছয় ম্যাচ—হার ছয়টি, জয় শূন্য। স্কোরবোর্ডের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, এই ভেন্যু বরাবরই বাংলাদেশের জন্য দু:স্বপ্নের নাম। কখনো ৭১ রানে, কখনো ৫৫ কিংবা ৭৫ রানে হার। এমনকি আছে ইনিংস পরাজয়ের তিক্ত স্মৃতিও। নিখুঁতভাবে বলা যায়—ইডেন গার্ডেন্স যেন বাংলাদেশের জন্য এক ‘অভিশপ্ত’ মাঠ।
এই দু:সহ রেকর্ড নিয়েই বিশ্বকাপ মিশনে নামতে হবে লিটন দাসের দলকে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান–নেদারল্যান্ডস ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপ। একই দিনে লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশও—কলকাতায় উইন্ডিজের বিপক্ষে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায়।

যদিও, কলকাতার ম্যাচকে প্লাস পয়েন্ট মানছেন লিটন দাস। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলাগুলা খুবই ভালো হওয়ারই কথা। সবগুলো টিমই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য ভালো দল। কলকাতায় খেলা হলে একটা সুবিধা যেটা, আমরা পরপর তিনটা গেম খেলব, এটা একটা প্লাস পয়েন্ট হতে পারে। এই তো, আর আমরা চেষ্টা করব আমাদের বেস্ট ক্রিকেটটা খেলার।’
‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও প্রথমবার বিশ্বকাপে নাম লেখানো ইতালি। ইডেনে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায়, প্রতিপক্ষ ইতালি। আর একই ভেন্যুতে তৃতীয় ম্যাচ ১৪ ফেব্রুয়ারি নেপালের বিপক্ষে, বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায়।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি হবে মুম্বাইয়ে, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড। ম্যাচটি ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু। ইডেনের ইতিহাস যেমনই হোক, বিশ্বকাপে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রশ্ন এখন একটাই—দীর্ঘদিনের অভিশাপ কাটিয়ে কলকাতা কি এবার লিটনদের হাসতে দেবে, নাকি আগের দু:স্বপ্নগুলো আবারও ফিরে আসবে?











