২০২৩ সালের এপ্রিলে, শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন তামিম ইকবাল খান। এরপর থেকে বাংলাদেশের টেস্ট দলের ওপেনিংয়ের দায়িত্ব সামলেছেন মোট চারজন। যাদের মধ্যে স্রেফ সাদমান ইসলামই থিতু হতে পেরেছেন এবং তার ব্যাটিং পারফরমেন্স চলনসই। বাকিদের অবস্থা তো তামিমের দুর্দিনের প্রায় সমান।
বছরওয়ারী হিসেবে তামিমের সবচেয়ে বাজে সময়টা কেটেছিল ২০১৮ সালে। স্রেফ ২০.৩৭ গড়ে তিনি সেবার রান নিয়েছিলেন। এছাড়া সবচেয়ে বাজে গড়ে তামিম ব্যাটিং করেছিলেন নিজের অভিষেকের বছরে। ২৪.৬২ ছিল ২০০৮ সালে তামিমের গড়। তামিমের সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচের পরে কেটে গেছে দুই বছর দুই দিন।
এই সময়ে মাহমুদুল হাসান জয়, জাকির হাসানরা পূরণ করতে চেয়েছিলেন তামিমের অভাব। কিন্তু তারা আদোতে অভাব পূরণের পরিবর্তে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দশ ম্যাচ খেলা জয়ের গড় ২০.৬০। ২০ ইনিংসে একটি সেঞ্চুরিও আসেনি তার ব্যাট থেকে। একই দশা জাকিরেরও। সেঞ্চুরি নেই ২০ ইনিংসে, গড় ২০.৯৪।

এনামুল হক বিজয়ের প্রসঙ্গ টানা নিতান্তই অবাঞ্ছনীয়। তিন ম্যাচে ৬২ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি সর্বসাকুল্যে। অতএব এই আলোচনায় অন্তত তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র নন। সর্বশেষ দুই বছরে বাংলাদেশের টেস্ট ওপেনারদের কাছ থেকে এসেছে স্রেফ একটি সেঞ্চুরি। ওই সাদমান ইসলামের ব্যাটই গগন চুম্বনে সমর্থ হয়েছে।
অবশ্য সাদমান আরও একটি সেঞ্চুরি দেখা পেতে পারতেন। যদি না ৯৩ রানের মাথায় পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে আউট হতেন। এছাড়া সাদমানের ব্যাট থেকে সর্বোচ্চ চারটি হাফসেঞ্চুরি পেয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হাফ সেঞ্চুরি তুলতে পেরেছেন জাকির, সংখ্যা তিনটি।
তবে ২০২২ ও ২০২১ সাল এই দুই বছরে তামিমের একার হাফসেঞ্চুরি আছে চারটি, সেই সাথে একবার তিনি তিন অংকের ম্যাজিক্যাল ফিগার ছুঁয়ে দেখেছেন। সেজন্য তার প্রয়োজন হয়েছে নয়টি ম্যাচ। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে তামিমের পারফরমেন্সকেও ছুঁতে পারছেন না তরুণ ব্যাটাররা। বাংলাদেশের টেস্ট ভবিষ্যতের জন্য এ এক দুশ্চিন্তার কারণ বটে।











