চড়া দামে ইসাক; লিভারপুলের স্ট্রাইক সমস্যার সমাধান?

লিভারপুলের মতো বড় ক্লাব ইসাককে দলে নিতে খরচ করেছে ১৪৪ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু এত চড়া দামে দলে ভেড়ানোর সিদ্ধান্ত কতটুকু যোক্তিক?

আলেকজান্ডার ইসাক! ইউরোপিয়ান ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবল উচ্চারিত নাম। লিভারপুলের মতো বড় ক্লাব তাকে দলে নিতে খরচ করেছে ১৪৪ মিলিয়ন ইউরো। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড গড়া দামে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করেছে অলরেডরা। এমনকি ইতিহাস হয়েছে ইউরোপীয়ান ফুটবলেও।

বল নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে গোল করার দক্ষতা সব দিক থেকেই সিদ্ধহস্ত এই সুইডিস ফুটবলার। মাঠের অগ্রভাগ কিংবা মধ্যভাগ তাঁর বিচরণ যেন পুরো মাঠ জুড়েই। গোলবারের সামনে যেন তিনি রীতিমত এক চৌকস শিকারী, গোল করাই যার নেশা। কিন্তু এত চড়া দামে দলে ভেড়ানোর সিদ্ধান্ত কতটুকু যোক্তিক?

তিনি নিউক্যাসেল এর হয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন অনেকবার। বড় দলের বিপক্ষে নেমে যে চাপ সামলাতে পারেন, তা নিয়ে সন্দেহের কোন জায়গা রাখেননি। ১০৯ ম্যাচ খেলে গোল করেন ৬২ টি। অ্যাসিস্ট করেন মোট ১১ টি। একজন স্ট্রাইকারের সামর্থ্য প্রমাণের এর চেয়ে বড় কোনো উপায় নেই। তিনি প্রতি দেড় ম্যাচে একটি করে গোলে রেখেছেন অবদান।

লিভারপুল দলে আক্রমণভাগে খেলোয়াড়দের অভাব ছিল স্পষ্ট। পরপর দুজনকে দল থেকে ছেড়ে আক্রমণভাগ দুর্বল হয়ে পরে দলটি। লুইজ ডিয়াজ এবং ডারউইন নুনেজের অভাব পুরনের বিকল্প হিসেবে ছিল না কেউ। সেই অভাব পূরণের আগেই হৃদবিদারক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আরেক অলরেড ফরোয়ার্ড ডিয়াগো জোতা।

অতএব লিভারপুলের কার্যকর ফরোয়ার্ড প্রয়োজন ছিল যেকোন মূল্যে। ইসাকই ছিল দলটির প্রথম পছন্দে। কিন্তু তাকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি খানিকটা ঘোলাটে হয়। প্রয়োজন পূরণের জন্যে হুগো একিটিকেকে দলে ভেড়ায় লিভারপুল। তবুও তাতে পুরোপুরি অভাবের শূন্যস্থান পূর্ণ হয় না। কেননা সব প্রতিযোগিতায় যে শিরোপা জিততে চায় লিভারপুল।

শুধু প্রিমিয়ার লিগ নয়, এফ এ কাপ, কারাবো কাপ ছাড়াও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রতিনিয়তই অংশগ্রহণ করে দলটি। এত বড় আসর গুলোতে টিকে থাকতে প্রয়োজন একজন গেম চেঞ্জার। ৯০ মিনিটের খেলায় মোড় ঘুরাতে প্রয়োজন একটি মাত্র গোল। আর এই স্কোরের জন্য প্রয়োজন পায়ের গতি, নৈপুণ্যতা এবং তীক্ষ্ণ নিশানা।

সেই চাহিদা মেটানোর ‘পারফেক্ট প্যাকেজ’ আলেকজান্ডার ইসাক। পজিশনিং সেন্স, দলের বাকিদের সাথে বোঝাপড়া- সবকিছুতেই পটু তিনি। যা সতীর্থ খেলোয়াড়দের সাথে তার রসায়ন জমিয়ে তোলার জন্যে যথেষ্ট।

ইসাক শুধু বর্তমানের নয় ভবিষ্যৎ এর জন্যও বড় বিনিয়োগ। তাঁর গতি, টেকনিক এবং বহুমুখী আক্রমনধারা আধুনিক ফুটবলের জন্য আদর্শ। নিজেদের চাহিদা ও ইসাকের সক্ষমতার কথা মাথায় রেখে লিভারপুল একেবারে উঠেপড়ে লেগেছিল তাকে দলে ভেড়াতে।

এছাড়াও ইসাকের বয়স মাত্র ২৫ বছর। অর্থাৎ নিদেনপক্ষে আরও বছর পাঁচেক তার সর্বোচ্চ সার্ভিস পাওয়া যাবে। এই সময়ে সকল শিরোপা জেতার ভবিষ্যত পরিকল্পনাই লিভারপুলের তাড়নার কারণ। সার্বিক দিক বিবেচনায় ইসাকের জন্যে লিভারপুলের খরচ করা বিপুল অর্থ যৌক্তিক ও যথাযথ।

Share via
Copy link