জীবন মাত্রই উত্থান, পতন, ফের উত্থানের গল্প। সাফল্যের জোয়ারে ভাসলে সে আনন্দ, কৃতিত্ব ভাগাভাগি করে নিতে নাগালে পাওয়া যায় গোটা দুনিয়াকেই, তবে পতনের অবেলায় সাথে থাকেই বা ক’ জন? নিজের খারাপ সময়ে ঈশান কিষাণ অবশ্য পেয়েছিলেন হার্দিক পান্ডিয়াকে।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে মাত্র ২৪ বলে ৬১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন ঈশান। ৯৩ রানের বড় ব্যবধানে সেই ম্যাচ জিতেছে ভারত। এই দুর্দান্ত জয়ের পর ঈশান নিজের ক্যারিয়ারের কঠিন সময় ও সেখান থেকে ফিরে আসার গল্প বলেছেন।
২০২৪ সালে বিসিসিআইয়ের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নাম কাটা পড়ে ঈশানের। মূলত লাল বল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে পর্যাপ্ত মনোযোগ না দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

একই সময় হার্দিক নিজেও বেশ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। গুজরাট টাইটান্স ছেড়ে মুম্বাইয়ে ফিরে আসার পর দলটির অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয় তার ওপর। কিন্তু এই অধিনায়কত্বই যেন শুরুতে কাল হয়ে দাঁড়ায় হার্দিকের। সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মার সমর্থকদের একটি অংশের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে।
এই সময় দুজন একসাথে দীর্ঘ সময় কাটান, অনুশীলন করেন এবং নিজেদের খেলায় উন্নতি আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। হার্দিকের পরামর্শে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতে শুরু করেন ইশান।
দুলিপ ট্রফিতে ভারত সি’ দলের হয়ে সেঞ্চুরি দিয়ে শুরু করেন তিনি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ঝাড়খণ্ড ক্রিকেট টিমের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতেও করেন সেঞ্চুরি। সৈয়দ মুশতাক আলী ও বিজয় হাজারে ট্রফিতেও ছিলেন ধারাবাহিক। বিজয় হাজারে ট্রফিতে সাত ম্যাচে ৪৫ এরও বেশি গড়ে ৩১৬ রান করেন।

আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলতে নেমেও হাঁকিয়েছেন শতক। এরপর ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলে নামের পাশে দুইটি অর্ধশতক যুক্ত করেছেন তিনি।
পরবর্তীতে তিনি ঝাড়খণ্ডকে প্রথমবারের মতো সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির শিরোপা জেতান। সেখানে ১০ ইনিংসে ৫১৭ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। পাশাপাশি বিজয় হাজারে ট্রফিতে কর্ণাটকের বিপক্ষে মাত্র ৩৯ বলে ১২৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে জাতীয় দলে ফেরার দাবিকে আরও শক্ত করেন।
কেরালায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করার সময় উইকেটের অপরপ্রান্তে ছিলেন হার্দিক। মাইলফলকে পৌঁছানোর পর দুজন আবেগঘন আলিঙ্গন এবং ঈশানের অর্জনে হার্দিকের উদযাপনই বলে দেয় কতটা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাদের।
কিষাণ বলেন, তিনি সাধারণত চুপ করে থাকার মানুষ নন। কিন্তু হার্দিক তাকে শিখিয়েছিলেন কথা নয়, পারফরম্যান্স দিয়েই জবাব দিতে হয়।











