কি ভুলটাই না করতে বসেছিল পাকিস্তান! শাদাবকে ছাড়াই ছিল তাদের বিশ্বকাপ খেলার প্ল্যান। কিন্তু প্রতিটা মুহূর্তে শাদাব বোঝাচ্ছেন মস্ত বড় এক অ্যাসেট তিনি। একেবারে পারফেক্ট অলরাউন্ডার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অলরাউন্ডারের চাহিদার পুরোটাই ডেলিভার করতে জানেন শাদাব খান, হোক সেটা বলে কিংবা ব্যাটে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পাকিস্তানের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে নিজের গুরুত্ব আরও একটিবার স্পষ্ট করলেন। ব্যাটে-বলের ‘ইম্প্যাক্টফুল’ পারফরমেন্স মঞ্চস্থ করলেন। প্রথমে দায়িত্ব সামলালেন ব্যাট হাতে। ছয় নম্বর ব্যাটার হিসেবে তিনি এলেন বাইশ গজে। ১২ বলের এক বিধ্বংসী ক্যামিওতে তিনি পাকিস্তানের সংগ্রহ বাড়িয়ে নিলেন চোখের পলকে।
স্রেফ ১২ বলের ইনিংসটিতে ৩০ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি বিদ্যুৎ গতিতে। একটি ছক্কা চারটি চারের ইনিংসটি যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই করবার নূন্যতম মানসিক বলয়কেও লণ্ডভণ্ড করে দেয়। কিন্তু শাদাব সেখানে থামেননি। এরপর বল হাতেও নিজের কার্যকারিতা বোঝাতে হতো তাকে।

সেই কাজটাও করলেন সুনিপুণভাবে। পুরো কোটা বোলিং করলেন, একটা নো-বল ছাড়া নেতিবাচক কোন বোলিং করেননি। মাপা লাইন-লেন্থে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটারদের আড়ষ্ট করে রেখেছিলেন তিনি। সেই ফায়দা পেতেও তার খুব বেশি দেরী হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে লড়াই চালানো শায়ান জাহাঙ্গিরকে তিনিই ফিরিয়েছেন প্যাভিলিয়নে। তার আগে আউট করেছেন মোনাঙ্ক প্যাটেলকে।
শুধু উইকেট তুলে নেওয়া নয়, তিনি রানের নদীও শুকিয়ে ফেলেন কৃপণ বোলিংয়ে। মাঝের ওভারগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে কোণঠাসা করে ফেলেন স্রেফ ২৬ রান খরচা করে, যেখানে তিনি হজম করেছেন স্রেফ একটি ছক্কা। আর একটিও বাউন্ডারি আদায় করতে পারেনি তার বলে।
এমন কার্যকর একজন অলরাউন্ডারকে রীতিমত নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। বিশ্বকাপের ভাবনাতেও তিনি ছিলেন না উপরের সারির দিকে। পারফরমেন্সের জোরেই তিনি ঢুকেছেন বিশ্বকাপের স্কোয়াডে। একাদশে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগিয়েছেন দারুণভাবে। তাকে ছাড়া বিশ্বকাপে এলে পাকিস্তান নির্ঘাত মিস করত এমন একজন এক্স ফ্যাক্টরকে।












