জাড্ডু জাদু দেখাবেন। কখনো তা খালি চোখে ধরা খাবে, কখনো নজর এড়িয়ে যাবে। কিন্তু, রবীন্দ্র জাদেজা ঘূর্ণিজাদুতে দলের জন্যে অবদান রেখে যাবেন নিয়ম করেই। সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচেও।
ফিফটি করা জো রুট ও বেন ডাকেটকে আউট করেছেন। ইংল্যান্ড ছিল বিশাল বড় লক্ষ্যের দিকেই। ৩০০ ছাড়িয়ে আরও খানিকটা দূরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু সে পথটা সংকীর্ণ করে দিলেন স্যার রবীন্দ্র জাদেজা। বল হাতে ইংল্যান্ডের রানের চাকার লাগাম টেনে ধরেছেন তিনি।
যখনই মনে হয়েছে ইংলিশ কোন এক ব্যাটার ভারতের মাথাব্যথার কারণ হতে চলেছেন, তখনই সেই কাঁটা উপড়ে ফেলেছেন জাদেজা। ওপেনিং জুটিতেই ৮১ রান তুলে ফেলে ইংল্যান্ড। সেই জুটির পতন ঘটাতেও রয়েছে জাদেজার অবদান। ফিল সল্টের ক্যাচ লুফে নেন তিনি, তাকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে দিনের সূচনা হয়।

তারপর তো দুই হাফ সেঞ্চুরিয়ানের উইকেটও তিনিই শিকার করেন। তবে সেখানেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না নিশ্চয়ই। ইংল্যান্ডের মত একটা দলকে চাপে রাখতে হয় প্রতিটা মুহূর্তে। সেই চাপটা একটা প্রান্ত থেকে ক্রমাগত প্রয়োগ করতে থাকেন জাদেজা। দশ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৩৫ রান। তার করা বলে একটি করে চার-ছক্কা মারতে পেরেছে ইংলিশ ব্যাটাররা।
এখানেই বরং জাদেজা অভিজ্ঞতার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। বোলিং বৈচিত্র্যের কোন অভাব নেই ভারতের দলে। মিস্ট্রি স্পিনার থেকে, চায়নাম্যান, লেগ স্পিনার কত বিকল্প! সেসবকে ছাপিয়ে অর্থোডক্স বা-হাতি স্পিনারে ভারত আস্থা রেখে যাচ্ছে এখনও। অক্ষর প্যাটেলরা আসছেন বটে। কিন্তু জাদেজার আর্ম বল এখনও যেন ভীষণ কার্যকর।
রান প্রসবা উইকেট, ছোট স্টেডিয়াম – এসব কোন কিছুই প্রভাবিত করতে পারে না জাদেজাকে। কন্ডিশনের ঠুনকো অজুহাত নয়, বরং নিজের বা-হাতের আঙুলগুলো ব্যবহারেই সবটুকু স্বাচ্ছন্দ্য তার। ওই আঙুলগুলো টিম ইন্ডিয়াকেও দেয় স্বস্তির পরশ।












