দস্তানা হাতে জাকের হওয়া উচিত থার্ড চয়েজ!

লিটন দাসের অবর্তমানে টিম কম্বিনেশনের কারণে দলে সোহান না থাকলে- সে ক্ষেত্রে একপ্রকার বাধ্য হয়েই জাকেরের উপর দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে, নতুবা নয়। 

এক বাক্যে হয়ত অনেকেই বলে দেবেন, জাকের আলী অনিকের উইকেটকিপিং আপ টু দ্যা মার্ক না। এশিয়া কাপ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে তার কিপিং দেখে এমন বাক্য বিশ্বাসে পরিণত হলে নিশ্চয়ই দোষের কিছু নেই।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে জাকের আলী অনিক ছেড়েছিলেন অভিষেক শর্মার ক্যাচ। সাত রানের মাথায় আউট হতে পারতেন অভিষেক। এরপর সেই অভিষেকের ব্যাটিংয়ের আগুনে পুড়ে ছাড়খাড় হয়েছিল গোটা বাংলাদেশ দল। সেই দশার বিন্দুমাত্র উন্নতি ঘটেনি আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে, একটা রানআউট তো প্রায় মিস করে ফেলেছিলেন তিনি। ডারউইশ রাসুলি দেরী করায় সে দফা অবশ্য ক্ষতি হয়নি। মুস্তাফিজুর রহমানের থ্রো ছিল না ঠিকঠাক। কিন্তু জাকের নিজের পজিশন সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। প্রথম ডাইভে তিনি মিস করেন স্ট্যাম্প। পর্যাপ্ত সময় থাকায় অন্তত দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তিনি রান আউট করতে সক্ষম হন।

তবে সেই সুযোগ তিনি ম্যাচের শেষভাগে পাননি। ১৯.৫ ওভারের সময় তিনি বল ধরেও প্রথমবার স্ট্যাম্প ভাঙতে ব্যর্থ হন। দ্বিতীয় দফা স্ট্যাম্প ভাঙার আগেই ব্যাটার শারাফুদ্দিন আশরাফ ঢুকে যান ক্রিজের ভেতর। একই ধরণের একটি রান আউট মিস করেছিলেন তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ম্যাচে।

এসব কিছুই বরং প্রমাণ করে দস্তানা হাতে ঠিক কতটা অকার্যকর জাকের আলী অনিক। বড় বড় ম্যাচে, এই ছোট ছোট ভুলের মাশুল বেশ বড় আকারে দিতে হয়। দলে নুরুল হাসান সোহান থাকার পরও জাকেরের কিপিং করা বরং হঠকারিতা। উইকেটে পেছনে একজন বিলো এভারেজ পারফরমারকে রাখার কোন মানে নেই, যেখানে একাদশেই রয়েছেন তর্কসাপেক্ষে দেশের অন্যতম সেরা কিপারদের একজন।

দস্তানা হাতে জাকেরকে কখনোই সাবলীল মনে হয় না। অভিষেকের ক্যাচটা তিনি ছেড়েছিলেন মূলত তার পজিশনিং সেন্সের দূর্বলতার কারণে। একইভাবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তার মিস হতে হতেও মিস না হওয়া রানআউটের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অন্যদিকে বল দেরী করে দস্তানাবন্দী করা তার স্কিলের দূর্বলতা। মোদ্দাকথা তিনি যে স্বভাবজাত কিপার নন- সেটা স্পষ্ট।

অতএব জাকেরকে দিয়ে কিপিং করানোর চিন্তা থেকে বাংলাদেশকে বেড়িয়ে আসতেই হবে। লিটন দাসের অবর্তমানে টিম কম্বিনেশনের কারণে দলে সোহান না থাকলে- সে ক্ষেত্রে একপ্রকার বাধ্য হয়েই জাকেরের উপর দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে, নতুবা নয়।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link