পাকিস্তানের বিপক্ষে জাসপ্রিত বুমরাহ আবারও বোঝালেন, কেন তিনি এই সময়ের সেরা বোলার। তার প্রথম স্পেলই চিৎকার করে জানান দিচ্ছেন, ‘হি ইজ দ্য বেস্ট’। না প্রথম ওভারে স্রেফ দুই উইকেট তুলে ফেলাতেই জাসপ্রিতের সকল কৃতীত্ব, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। পরিস্থিতি মেনে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া ও নিজের মাথায় চলা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটানো তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। চাইলেই শাহিন শাহ আফ্রিদির নির্বুদ্ধিতাকে টেনে এনে বোঝানো সম্ভব জাসপ্রিত কেন সবচেয়ে আলাদা।
কলম্বোর প্রেমাদাসার উইকেটে বল খানিকটা থমকে যাচ্ছে। এটা টের পাওয়া গিয়েছিল সালমান আলী আঘার প্রথম ওভারেই। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারে শাহীন শাহ আফ্রিদি বোলিংয়ে এসে তার চিরায়ত বোলিংটাই করতে চাইলেন। সুইং নির্ভরতা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারলেন না বা চাইলেন না- নিজের সুইং দিয়ে কাবু করতে চাইলেন ভারতীয় ব্যাটারদের। ফুলার লেন্থে বল ছুড়ে বাউন্ডারি হজম করলেন। তাতেই দিনের বাকিটা সময় তিনি হয়ে গেলেন ছন্নছাড়া।

কিন্তু অপরদিকে ইনিংসের প্রায় একই সময়ে অর্থাৎ দ্বিতীয় ওভারে বল তুলে নেন জাসপ্রিত বুমরাহ। তিনি বল মুভমেন্ট করানোর কোন চেষ্টাই করলেন না। বরং তিনি লেন্থ নিয়ে খেলতে চাইলেন। প্রথম বলটা করলেন হার্ডলেন্থে, তেড়েফুড়ে সেই বলে ছক্কা হাঁকালেন সাইম আইয়ুব। তবে তাতে সাইমের কৃতীত্ব খুব একটা নেই, ব্যাটের টপএডজ লেগে বল চলে যায় বাউন্ডারির বাইরে। তবুও বিচলিত হলেন না সাইম।
এরপরের বলেই বুমরাহ করলেন কিস্তিমাত। ছুড়লেন এক দুর্ধর্ষ ইয়োর্কার। নতুন বলে ইয়োর্কার ছোড়া যাবে না এমন তো কোন নিয়ম নেই। সাইম ফিরলেন প্যাভিলিয়নে। এরপর সালমান তার ইয়োর্কারে ফ্লিক করে বাউন্ডারি ছাড়া করলেন। তারপর ব্যাক অব লেন্থে বল করলেন জাসপ্রিত। এবার আগ্রাসনের চিন্তাভাবনায় সালমানের চালানো শট উঠে যায় সোজা আকাশ পানে।

এই যে পরিস্থিতি বুঝে বোলিং করা, বিচলিত না হওয়া, কন্ডিশন অনুযায়ী নিজের কর্ম পরিকল্পনা সাজানো, ব্যাটারের মস্তিষ্কের সাথে ছেলেখেলায় মেতে ওঠা- এসব কিছুতেই জাসপ্রিত বুমরাহ দেখিয়েছেন নিজের মুন্সিয়ানা। ঠিক এ কারণেই বুমরাহ সময়ের সেরা। সবার থেকে আলাদা।











