হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সময় শেষ। তবে তাতে কি ভাঙবে সিন্ডিকেটের ভয়াল বলয়? সিন্ডিকেটের হাত থেকে বাংলাদেশ ফুটবলের মুক্তি কি মিলবে ক্যাবরেরার বিদায়ে? বেশ জটিল সমীকরণ, বেশ কঠিন সব প্রশ্ন। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর হতে পারে ইতিবাচক। যদি একজন শক্ত মেরুদণ্ডের কোচকে পাওয়া যায় বাংলাদেশের ডাগআউটে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, তাবিথ আওয়াল- বেশ আগেভাগেই একটা আভাস দিয়ে রেখেছিলেন। হংকংয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠের শেষ ম্যাচটিই হতে পারে- হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা অধ্যায়ের শেষ অংশ। কিন্তু সেই ক্যাবরেরা ঠিকই দলের সাথে উড়াল দিয়েছেন হংকংয়ে- ফিরতি লেগের ম্যাচেও দলের ডাগআউটে থাকবেন ক্যাবরেরা। কিন্তু কেন?
নয় তারিখের ম্যাচে, ৩-৪ গোল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ দল। সেই ম্যাচকে ঘিরে বয়ে গেছে সমালোচনার গণজোয়ার। তিরস্কারে কলুষিত এক চরিত্রে পরিণত হয়েছেন স্প্যানিশ কোচ ক্যাবরেরা। তার অর্থহীন একাদশ নির্বাচন, ক্লুলেস কৌশলে দলকে খেলানোতে বাংলাদেশের এএফসি এশিয়া কাপে খেলার সম্ভাবনার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে।

তারপরও কেন তিনি টিকে রইলেন? উত্তর হচ্ছে, আগামী ১৪ তারিখ আবারও হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই উদ্দেশ্যে দেশও ছেড়ে গেছে দল। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন কোচ নিয়োগ দেওয়া প্রায় অসম্ভব। আর কোচহীন ভিনদেশ ভ্রমণ দলের মধ্যে নেতিবাচকতার সৃষ্টি করতে পারে। নাই মামার থেকে তো কানা মামা ভাল- ওই মতাদর্শের কারণেই ক্যাবরেরাকে দেখা যাবে শেষবারের মত ডাগআউটে?
তবে বারংবার যেই সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গ সামনে আসে বাংলাদেশের ম্যাচ এলেই, সেই সিন্ডিকেট কি ক্যাবরেরার বিদায়ে ভেঙে যাবে? উত্তর হচ্ছে, হয়ত না। কেননা ওই সিন্ডিকেটের স্রেফ একজন পেয়াদা হচ্ছেন ক্যাবরেরা। সিন্ডিকেটের বলয় বেশ বিস্তৃত। সহজে ভাঙা কঠিন। তবে দাবার বোর্ডে এক পেয়াদাও তো পালটে ফেলতে পারে খেলার গতিপথ।
তেমনটি করার জন্যে এক শক্ত মেরুদণ্ডের কোচ হতে পারেন সমাধান- উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ নারী দলের হেডকোচ পিটার বাটলার। অসামান্য দৃঢ়তা দেখিয়েছেন দলের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে। এরপর তো রীতিমত ইতিহাস গড়ে দেখিয়েছেন বাটলার। একটু মানসম্মত ও ইস্পাত কঠিন দৃঢ় মানসিকতার কোচই হয়ত সিন্ডিকেটের সেই কালো হাত ভেঙে দিতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- বাফুফে কি তেমন কাওকে নিয়োগ দেবে ডাগআউটে?












