ক্রিকেট জীবনে জন্টি রোডস ছিলেন ফিল্ডিং সম্রাট। স্পিড, রিয়েকশন টাইম, অ্যাকুরেসি আর অ্যাথলেটিজম – সর্বকালের সেরা ফিল্ডার হওয়ার সব গুণ ছিল তাঁর মাঝে। হয়েছেনও বটে, ফিল্ডিংয়ে একের পর এক চমক দেখিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ফিল্ডারদের আইকন।
এখন অবশ্য বয়স হয়েছে, আগের সেই তেজ কি আর এখন আছে? কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার্স লিগ দেখতে বসলেই আপনার ভুল ভেঙে যাবে। জন্টি এখনো আগের সময়ে রয়ে গিয়েছেন, একটুও বদলাননি; আগের মতই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মাঠে।
অস্ট্রেলিয়া মাস্টার্সের বিপক্ষে ম্যাচের কথা, উনিশতম ওভারের তৃতীয় বলে শেন ওয়াটসন একেবারে স্ট্রেট ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে বল পাঠান। সবাই যখন ভেবে নিয়েছিল নিশ্চিত চার, তখনি পর্দায় হাজির প্রোটিয়া কিংবদন্তি। লং অফ থেকে দৌড়ে এসে পুরো শরীর হাওয়া ভাসিয়ে ডাইভ দেন তিনি, আটকে দেন নিশ্চিত চারটা।

বিস্মিত ধারাভাষ্যকারের মুখে তখন শোনা গিয়েছিল, ‘জন্টি রোডস, হু ইলস?’ – সত্যিই তাই, আর কার সাধ্য আছে ৫৫ বছর বয়সে এমন ডাইভ দেয়ার। বুড়োকালে এসেও তিনি যে ফিটনেসে সঙ্গে আপোষ করেননি সেটা তাই বলার অপেক্ষা রাখে না। খানিক আগেও তো বাউন্ডারি লাইনে রিলে ক্যাচ নিয়েছিলেন তিনি – সবমিলিয়ে অজিদের বিপক্ষে ফিল্ডিং নৈপুণ্য দেখিয়ে আরো একবার হৃদয় জিতে নিলেন।
এর আগে ভারতের বিপক্ষেও চোখে লেগে থাকার মত ফিল্ডিং করেছিলেন এই তারকা। কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের চলতি টুর্নামেন্টে তাঁর ফিল্ডিং আসলে অবাক করে দিচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের সেরা ফিল্ডারদেরও।
কিছু জিনিস ভোলা যায় না, কিছু শিক্ষা এতটাই আয়ত্তে চলে আসে যে চাইলেই ছুঁড়ে ফেলা যায় না। জন্টি রোডসের কাছে ফিল্ডিংয়ের দীক্ষাটা এমনই। সেজন্য পেশাদার ক্রিকেট থেকে এত দূরে থেকেও তাঁর ফিল্ডিংয়ে মরিচা ধরেনি।











