ছক্কা হাঁকিয়ে দেড়শ পূরণ করলেন মাহমুদুল হাসান জয়, ড্রেসিংরুমে হাততালিতে মুশফিকুর রহিম অভিবাদন জানালেন। এমন অনবদ্য ইনিংসের যে এই সম্মানটাই প্রাপ্য।
জয়ের ব্যাটে প্রথম এবং শেষ সেঞ্চুরি এসেছিল ২০২২ সালে, এরপর ফর্মহীনতার শিকলে আটকে ছিলেন তিনি। দলে জায়গা হারাতে হয়েছে, অন্ধকার গ্রাস করেছে ব্যাটকে। তবে জয় শিকল ভেঙে ফিরে এলেন, শতক হাঁকিয়ে, ব্যাট উঁচিয়ে জানান দিলেন কেটে গেছে সব অন্ধকার।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ফেরার মঞ্চটা তৈরি ছিল জয়ের জন্য। ব্যাট হাতে ভালো কিছুর আভাস ছিল শুরু থেকেই। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা জয়কে নিয়ে প্রত্যাশা একটু বেশি ছিল যেকোন সময়ের তুলনায়।

জয় সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন। নড়বড়ে ওপেনিং পজিশনে সাদমান ইসলামকে সাথে নিয়ে গড়লেন ১৬৮ রানের জুটি। সাদমান অসমাপ্ত ৮০ রানের ইনিংস খেলে বিদায় বললেও জয় থাকলেন অবিচল, যেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক তুলে নিতে বদ্ধপরিকর।
শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সেই সময়ও এলো। জয় ব্যাট তুলে ফেরার মঞ্চটাকে রঙিন করে তুললেন। তবে তখনও যে অনেকটা পথ বাকি ছিল, নিজের পথচলাকে আরও দূরে নিয়ে যেতে চাইলেন। ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেললেন, ১৫০ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে একই ম্যাচে তৃতীয় বারের মতো ব্যাট উপরে তুললেন।
জয়ের ফেরার গল্পের ভূমিকা লেখা অবশ্য শুরু হয়েছিল এনসিএল টি-টোয়েন্টি থেকে। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলেন। সেই আত্মবিশ্বাস পুঁজি করে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটেই শতক হাঁকিয়েছিলেন চট্টগ্রামের হয়ে। উড়ন্ত সেই ফর্মটা আবারও তাঁকে ফিরিয়ে আনলো জাতীয় দলে। আর এরপরই জয়ের বাজিমাত।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে এসে হোঁচট খাওয়া দেশের ক্রিকেটের দৈনন্দিন ঘটনা, জয় অবশ্য সেই পথে হাঁটলেন না, বরং স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে লিখলেন অনবদ্য এক ইনিংসের গল্প।











