ফাইন লেগের ওপর দিকে কামিন্দু মেন্ডিস বিষ্ময়কর এক ছক্কা হাঁকালেন। লঙ্কান মিডল অর্ডার নিয়ে যে শঙ্কা ছিল সেটাকে স্রেফ এই ছক্কার মতোই উড়িয়ে দিলেন বাউন্ডারির ওপারে। দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচের মোমেন্টাম নিজের দিকে টেনে আনলেন, শ্রীলঙ্কার সহজ জয়ের রাস্তা বাতলে দিলেন।
এদিন দলের চাহিদা অনুযায়ী ১৩ বলে ২৬ রানের কার্যকরী এক ইনিংস এলো কামিন্দুর ব্যাট থেকে। পেরেরা- মেন্ডিসদের গড়ে দেওয়া ইনিংসের ফিনিশিং টানলেন দক্ষ কারিগরের মত।
চার ওভারে শ্রীলঙ্কার দরকার ৪২ রান। আফগানরা তখনও ম্যাচে আছে বেশ ভালোভাবেই। ১৭ তম ওভারে নূর আহমেদ বোলিংয়ে এলেন। প্রথম বল ওয়াইড, তবে তাঁর পরের বলটা স্লটে পেয়ে লং অন অঞ্চল দিয়ে ছক্কা হাঁকালেন কামিন্দু। ওখানেই ম্যাচের মোমেন্টাম পুরোপুরি পেল শ্রীলঙ্কা।

১৮ ওভারের পঞ্চম বলে আবারও কামিন্দুর ব্যাট থেকে ছয়ের মার। আর তাতেই কার্যত শেষ আফগানদের আশা-ভরসা। ২৬ রানের ইনিংস জুড়ে স্ট্রাইক রেট ২০০ এর উপর। হাঁকিয়েছেন ঐ দুই ছক্কায়। সেটাই একপ্রকার নির্ধারণ করে দিল ম্যাচের ভাগ্য। শ্রীলঙ্কা শেষমেষ জয় পেল ছয় উইকেটের ব্যবধানে।
আক্রমণাত্মক মেজাজের ব্যাটিং, ম্যাচের মোমেন্টাম ঘোরানো, প্রতিপক্ষের বোলারকে কোনরূপ সুযোগ না দেওয়া—সব মিলিয়ে মেন্ডিসের এই ইনিংসটা একেবারের পিকচার পারফেক্ট।
এই ইনিংসের সুবাদে কপালে লঙ্কানদের আরও এক দুশ্চিন্তার রেখা কিছুটা হলেও মুছে গেল। শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার নিয়ে বেশ ধোঁয়াশা ছিল। টপ অর্ডার নির্ভর দলটার মিডল অর্ডার ঠিকঠাক জমছিল না। তবে কামিন্দুর এই ইনিংস হয়তো কিছুটা হলেও সেই দুশ্চিন্তার উপর প্রলেপ দিয়েছে।

তাই তো সুপার ফোরের লড়াইয়ে মিডল অর্ডারে ভরসার মশাল হাতে আলো দেখাতে পারেন কামিন্দু মেন্ডিস। এই বিশ্বাসটা অন্তত আদায় করেছেন তিনি।











