৪০ ওভার শেষে অলক কাপালির রান ৫৯ বলে ৪৩। এরপর যখন তিনি আউট হলেন, তখন তার সংগ্রহ ছিল ৯৬ বলে ১১৫। অর্থাৎ পরবর্তী ৩৭ বলে ৭২ রান সংগ্রহ করেছিলেন অলক কাপালি। ভারতের বোলারদের বিরুদ্ধে কি দুর্ধর্ষ ইনিংসটাই না তিনি খেলেছিলেন সেদিন।
ঘটনাটা ২০০৮ সালের। করাচির বুকে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত। সেই ম্যাচে ছয় নম্বর ব্যাটার হিসেবে ব্যাট করতে এসেছিলেন কাপালি। ইনিংসের ২৪ তম ওভারে বাইশ গজে আগমন তার। ততক্ষণে বাংলাদেশ ১২০ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলে চারটি উইকেট। এরপরেই শুরু হয় ‘দ্য অলক কাপালি শো’।
ভারতের বোলিং ছন্দকে নিষ্ক্রিয় করতে তিনি সেদিন থিতু হওয়ার সময় নিলেন। বাইশ গজের সাথে সখ্যতা বাড়ালেন। ২১ বল লেগে গেল তার প্রথম বাউন্ডারির অনুসন্ধানে। তবুও তিনি তাড়াহুড়ো না করে, নিজের লক্ষ্য স্থির রাখলেন। ধীর পায়ে একটু একটু করে অনবদ্য এক ইনিংসের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করেন।

কিন্তু সময় তো উড়ালপঙ্ক্ষী। চোখের নিমিষেই হাওয়া হয়ে যায়। ৪০ ওভার শেষে, বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ তখন, ১৮৬ রান পাঁচ উইকেট হারিয়ে। এবার ব্যাটিং গিয়ার বদলে ফেলেন অলক কাপালি। নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে বাউন্ডারির নিনাদে, শেষ দশ ওভারে দলের স্কোরবোর্ডে ৯৮ রান তুলতে সহয়তা করলেন। যার সিংহভাগই ছিল কাপালির ব্যাটে প্রাপ্ত।
শেষের দশ ওভারে পৌঁছানোর আগে কাপালির বাউন্ডারি সংখ্যা ছিল মোট চারটি। তিনটি চারের বিপরীতে ছক্কা ছিল মোটে একটি। কিন্তু তিনি যখন ১১৫ রানে ইনিংসের ৪৯.৫ তম বলে আউট হলেন, তখন তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করেছে মোট ১৫টি বাউন্ডারি। অর্থাৎ শেষ দশ ওভারে নিজের খেলা ৩৭ বলের মধ্যে ১১টিতেই বাউন্ডারি আদায় করেন কাপালি।
যার মধ্যে ছিল সাতটি চার ও চারটি সুবিশাল ছক্কা। সেটিই ছিল তার আন্তর্জাতিক ওয়ানডে আঙিনায় প্রথম শতক। ভারতের মত বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে, এমন ইনিংস খেলা সম্ভব- সেই সাহস দেখিয়েছিলেন কাপালি। চাপের মুখে তিনি ন্যুব্জ হয়ে যাননি। বরং প্রয়োজনের মুহূর্তে ঠিকই ব্যাটিং গিয়ার পরিবর্তন করেছেন, দলের রান দ্রুত বাড়িয়েছেন।

আজকের টি-টোয়েন্টি দুনিয়ায়, এই ঘটনা বেশ অহরহ ঘটলেও- একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দশকে এমন ঘটনা ছিল বেশ বিরল। স্রোতের বিপরীতে গিয়ে সেদিন সাহস দিয়েছিলেন অলক কাপালি। যদিও সেদিন বাংলাদেশ জিততে পারেনি।











