ভারতীয় ক্রিকেট এখন গম্ভীরভাবে বদলে যাচ্ছে। যারা একসময় ভারতীয় ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বলে বিবেচিত ছিলেন, গৌতম গম্ভীরের যুগে তারা এখন অতীতের অধ্যায়। এক নতুন প্রজন্মের মুখ, এক নতুন দর্শন, আর সেই সঙ্গে কিছু পরিচিত নামের অদৃশ্য অন্তর্ধান, এসব খুবই ‘কমন’ গম্ভীরের যুগে।
- রুতুরাজ গায়কোয়াড়
চেন্নাই সুপার কিংসের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার, জাতীয় দলেও ডাকও পেয়েছিলেন। এখন শুভমান গিল, যশস্বী জয়সওয়াল, অভিষেক শর্মাদের সাথে তাঁর নামও আসত।

তবে, ছয় ওয়ানডেতে মোটে ১১৫ রান করেন, গড় ১৯.১৬। টেকনিক যুৎসই, কিন্তু বর্তমান যুগে দরকার রান তোলার গতি আর আগ্রাসন। এটাই গম্ভীরের ভারতের দর্শন।
- ঈশান কিষাণ
তাঁর ক্ষেত্রে যুক্তি আবার ভিন্ন। ২০২৩ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন, তারপর হঠাৎ নীরবতা। বোর্ডের সঙ্গে ঝামেলা, কেন্দ্রীয় চুক্তি হারানো – অসেক কিছুই দেখেছেন ঈশান কিষাণ।

২৪ ইনিংসে ৯৩৩ রান করেছেন, গড় ৪২.৪০। একসময় খোদ মহেন্দ্র সিং ধোনির উত্তরাধিকারী বলা হত তাঁকে, কিন্তু গম্ভীরের ভারতে তাঁর ঠাই নেই। গম্ভীরের বাজির ঘোড়া সাঞ্জু স্যামসন বা ধ্রুব জুরেলরা।
- রজত পাতিদার
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে ইতিহাসে প্রথমবারের মত জিতিয়েছেন আইপিএল ট্রফি। নিজে জিতেছেন দুলীপ ট্রফি। তবুও, জাতীয় দলে ডাক নেই।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৩৭.৪৭ গড়টাও এখানে বড় একটা কারণ। কোনো এক্স ফ্যাক্টর নেই, ভিড়ের মধ্যে তাঁকে তাই আলাদা করতে পারেনি গম্ভীরের ম্যানেজমেন্ট।
- আবেশ খান
সীমিত ওভারে ভারসাম্যপূর্ণ বোলার। তবে, কোচ বদলের পর উপেক্ষিত। পারফরম্যান্স মন্দ নয়, ৮ ওয়ানডেতে ৯ উইকেট নিয়েছেন, ইকোনমি ৫.৫৪।
লিস্ট ‘এ’-তেও ৪১ ম্যাচে ৪৯ উইকেট। কিন্তু, গম্ভীরের জমানায় তিনি উপেক্ষিত। তাঁর প্রিয় পাত্র হার্ষিত রানা, রানাকে তিনি তিন ফরম্যাটেই বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

ভারতের ওয়ানডে দলের রূপরেখা এখন স্পষ্ট। রোহিত–বিরাট পরবর্তী যুগে তরুণদের রাজত্ব চান গম্ভীর। গম্ভীরের নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা নয়, অগ্রাসনই মূল মন্ত্র। রুতুরাজ, ঈশান, রজত বা আবেশ—কেউ গম্ভীরের ঘরানায় ‘ফিট-ইন’ হচ্ছেন না। সহসাই এই অচলায়তন ভাঙার সম্ভবনাও নেই।










