ফুলার লেন্থের গতিশীল বলে উপড়ে গেল জাকের আলী অনিকের স্ট্যাম্প। খালেদ আহমেদ মেতে উঠলেন শিকারের উন্মাদনায়। খালেদের গায়ে লেপ্টে আছে টেস্ট বোলার তকমা। নিজের জন্মভূমির মাটির উপর দাঁড়িয়ে খালেদ প্রমাণ করলেন, তকমার বেড়াজালে তাকে আটকে রাখা বৃথা। দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন খালেদ আহমেদ।
সিলেট টাইটান্সের জার্সিতে তিনি জ্বলে উঠলেন নিজেকে চেনানো তীব্র শক্তিতে। গুণে গুণে নোয়াখালীর চারখানা উইকেট বাগিয়ে নিয়েছেন খালেদ আহমেদ। একেবারে ইনিংসের শুরুর দিকে নিজের প্রথম ওভারে তার জোড়া আঘাত। ইনিংসের শেষের ওভারে আবারও জোড়া আঘাত। দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি হ্যাটট্রিকের দ্বারপ্রান্তে।
নোয়াখালীর আক্রমণাত্মক ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহানের উইকেট তুলে শুরু করেন খালেদ নিজের শিকারের যাত্রা। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে শূন্যরানে ফেরেন সোহান। ওই একই ওভারের পঞ্চম বলে খালেদের উইকেটে পরিণত হন পাকিস্তান থেকে উড়ে আসা হায়দার আলী। নিজের প্রথম ওভারে জোড়া আঘাত করার পাশাপাশি, মেইডেন আদায় করেন সিলেটের ডানহাতি পেসার।

এরপর ব্যক্তিগত স্পেলের মাঝের দুই ওভারে তিনি ছিলেন মিতব্যয়ী। সেই দুই ওভারে তিনি খরচ করেন মোটে ১৫টি রান। এরপর ইনিংসের শেষভাগে ব্যাটিং প্রান্তে দুই সেট ব্যাটার, জাকের আলী অনিক ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন- তাদের বিরুদ্ধে বল হাতে খালেদ ছিলেন আত্মবিশ্বাসী।
জাকের ও অঙ্কন দুইজনই ব্যাটিং গিয়ার পরিবর্তন করে ফেলেছেন ততক্ষণে। তাদের ৩৯ বলে ৬৬ রানের জুটি জমে ক্ষীর। এমন অবস্থায় তিনি জাকেরকে করেন বোল্ড আউট। ঠিক পরের বলে রেজাউর রহমান রাজাকেও তিনি ফেরান প্যাভিলিয়নে। এদফা অবশ্য সতীর্থ ইথান ব্রুকসকে খানিকটা বাড়তি কৃতীত্ব দিতেই পারেন খালেদ আহমেদ। অসাধারণ এক ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন ইংলিশ এই ক্রিকেটার।
শেষ বলে ছক্কা হজম করেও, খুব একটা দৃষ্টিকটু হয়নি খালেদের বোলিং ফিগার। চার ওভারে চার উইকেটের বিনিময়ে তার ব্যয় মোটে ২৩ রান। অর্থাৎ স্রেফ ৫.৭৫ ইকোনমিতে রান বিলিয়েছেন তিনি। শুরু ও শেষে তার এমন আক্রমণে নোয়াখালীর ভিত্তি হয়ে যায় নড়বড়ে। তাতে করে ১৪৩ রানেই থামে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সংগ্রহের গাড়ি।












