১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে যিনি তিন ফরম্যাটেই ৫০–এর ওপর ব্যাটিং গড় ধরে রেখেছিলেন, সেই কোহলি এখন লড়ছেন এক অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতার সঙ্গে। গড় ক্রমশ নিচের দিকে নামছে, ব্যাট যেন ধীরে ধীরে নীরব হয়ে আসছে।
আধুনিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা, ক্ষুধা আর শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক ছিলেন বিরাট কোহলি। তিনি মাঠে নামলেই এক দৃঢ়তা আর অটল বিশ্বাস থাকতো তাঁর ছায়া হয়ে। কিন্তু সময়ের নিয়মে আজ সেই অদম্য প্রতীকের পরিসংখ্যান যেন ফিকে হতে বসেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটে ‘গড়ের রাজা’ হিসেবে খ্যাত ছিলেন কোহলি। তিন ফরম্যাটেই ৫০–এর ওপরে গড় ধরে রাখাটা ছিল তাঁর অন্যতম গর্বের জায়গা। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, সেই জৌলুস এখন অতীত হতে চলেছে।

টি–টোয়েন্টি এবং টেস্ট ক্রিকেটে তিনি এখন অতীত। যাওয়ার আগে সেই পঞ্চাশ পেরোনো গড়ের রাজত্বও ভেঙে দিয়ে গেছেন। টি–টোয়েন্টিতে তাঁর গড় নেমেছে ৪৮.৬৯, টেস্টে ৪৬.৮৫।
দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর টেস্ট গড় ৪৯.৫০, আর অস্ট্রেলিয়ায় তা মাত্র ৪৬.৭২। এমনকি ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ায়ও তাঁর গড় এখন ৪৯.১৪, যা ৫০–এর নিচে নেমেছে বহু বছর পর। যদিও এই ফরম্যাটে তাঁর সামগ্রিক গড় ৫৭.৬৪।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে কোহলির শূন্য রানে আউট হওয়ায় একটা প্রশ্ন ডালপালা মেলেছে—তবে কি শেষ হয়ে যাচ্ছে এক যুগের রাজত্ব? উত্তরটা ‘হ্যাঁ’ বলা যায়। তবে কোহলির পতন মানে শুধুই পরিসংখ্যানের পতন নয়, বরং এটা এক বাস্তব চিত্রও বটে।

হাজার হোক, বিরাট কোহলিও সব কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়েও একজন রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। তাই তো অমানবিক পরিশ্রমে তৈরি করা নিজের সাম্রাজ্যের পতন দেখতে হচ্ছে তাঁকে, দেখতে হচ্ছে সময়ের নিষ্ঠুরতা। যে ধারাবাহিকতা তাঁকে কিংবদন্তি করেছে, সেটিই এখন তাঁর ক্লান্তির কারণ। তবে সব ছাপিয়ে এ যুগের মঞ্চে বিরাট এখনো সেরা, বিরাট এখনো ক্রিকেটের আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা।











