সময়ের ব্যবধান, বয়স, ম্যাচের সংখ্যা কিংবা প্রস্তুতির প্রশ্ন কোনো কিছুই যেন কমাতে পারে না বিরাট কোহলির ব্যাটের ধার। ছয়টি ওয়ানডেতে ৫৯২ রান, তিনটি শতক, তার ওপর দিল্লির হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফিতে একটি শতক ও একটি অর্ধশতক। ২০২৬ সালে এসে যেন কোহলি ফিরে গিয়েছেন তাঁর সেই স্বর্ণযুগে।
বিসিসিআইয়ের নীতির অংশ হিসেবে বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলতে নেমে কোহলি দেখিয়ে দিয়েছেন – ফর্মের জন্য নিয়মিত ম্যাচ নয়, প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতি। ছয় মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে এসেও তাকে দেখে একবারের জন্য মনে হয়নি যে এতদিন দূরে সরে ছিলেন ক্রিকেটটা থেকে।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে কোহলি আবারও ফিরেছেন আইসিসি ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। শেষ সাতটি ওয়ানডের মধ্যে ছয়টিতেই পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন তিনি। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি শতক। ইনিংস গড়ে তোলা, চাপ সামলে দলকে পথ দেখানো – সব মিলিয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে তাঁর আধিপত্য যেন এই বয়সে এসেও ঠিক আগের মতোই।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে সেই চেনা দৃশ্যই ফিরে আসে। ৩৩৮ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১০৮ বলে ১২৪ রান। কোহলির ব্যাট থেকে আসে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৮৫তম শতক। এটি ছিল তার শেষ আটটি ৫০ ওভারের ইনিংসের মধ্যে চতুর্থ শতক।
এই ধারাবাহিকতার প্রশংসা করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ। তার মতে, নিয়মিত মাঠে না থেকেও যেভাবে কোহলি প্রতিবার রান করে চলেছেন, তা সম্ভব হয়েছে তাঁর প্যাশন, ফিটনেস, নিখুঁত প্রস্তুতি এবং খেলাটিকে গভীরভাবে বোঝার ক্ষমতার কারণে।
আগামী জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আবার ভারতীয় দলে ফিরবেন কোহলি। তার আগেই কাইফের স্পষ্ট মত, কোহলি নিজেকে প্রমাণ করার পর্যায় বহু আগেই পেরিয়ে এসেছেন। তাকে আর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে বাধ্য করার প্রয়োজন নেই।
কাইফের ভাষায়, ম্যাচ প্র্যাকটিস অনেকেই পায়। কিন্তু কোহলির মতো প্যাশন কোথাও পাওয়া যায় না। কঠিন পরিস্থিতিতে দল যখন দিশাহারা, তখনও তিনিই ভরসার নাম। সামনে প্রতিপক্ষের এগারোজন থাকলেও একাই ব্যাট হাতে যিনি ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন, তিনিই কোহলি।











