কুলদ্বীপের বৈচিত্র্যের ঘূর্ণিপাক, তালগোল পাকিয়ে দিশেহারা আমিরাত

একজন আনঅর্থোডক্স বোলার এভাবেই ম্যাচের পুরো দৃশ্যপট বদলে দিতে পারেন চোখের পলকে। এ কারণেই তো বিশ্বব্যাপী ভিন্নধর্মী বোলারদের এতটা কদর।

ফ্লিপার, লেগস্পিন এরপর বিষধর গুগলি। এক ওভারে কুলদ্বীপ যাদবের তিন বৈচিত্র্যের ডেলিভারি। আর এই তিন ডেলিভারিতেই উইকেট তুলে নিয়েছেন ভারতের চায়নাম্যান স্পিনার। মুহূর্তের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে তাসের ঘরে পরিণত করলেন বা-হাতি এই স্পিনার।

ভারতের বিপক্ষে আরব আমিরাত যে কঠিন সময় পার করবে তা অনুমিতই ছিল। তবুও আট ওভারে দুই উইকেটের বিনিময়ে ৪৭ রান নিয়ে মোটামুটি একটা সংগ্রহের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল আরব আমিরাত। কিন্তু হুট করেই মরুর বুকে ঝড় তুললেন কুলদ্বীপ যাদব। আর সেই ঝড়ে আমিরাতের সকল প্রতিরোধ হয়েছে ধূলিসাৎ। পরবর্তী দশ রান তুলতেই নিঃশেষ আমিরাতের সকল প্রচেষ্টা।

প্রথমে ফ্লিপার ডেলিভারি অফ স্ট্যাম্প চ্যানেলে। তুলে খেললেন রাহুল চোপড়া। লং অনে সহজ ক্যাচ শুভমান গিলের তালুবন্দী। সেটা ছিল নবম ওভারের প্রথম ডেলিভারি। দুই বলের বিরতি দিয়ে আবারও কুলদ্বীপের আক্রমণ। এবার সহজাত লেগ স্পিনে আমিরাতের অধিনায়কের শেষ হল সমস্ত কারিকুরি।

লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মুহাম্মদ ওয়াসিম। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। এরপর আবারও এক বলের বিরতি। এদফা দুর্ধর্ষ গুগলি। ব্যাটার হার্শিত কৌশিক বলের লাইনে গিয়ে ডিফেন্ড করতে চাইলেন। কিন্তু টার্নে পরাস্ত হয়ে ব্যাটের আলতো খোঁচায় ছত্রখান হয় স্ট্যাম্প।

এরপরের গল্পে আমিরাতের জন্যে ছিল কেবলই হতাশা। আর কোন ব্যাটারই প্রতিরোধের স্ফুলিঙ্গ জ্বালাতে পারেননি। অগ্যতা দশ রানের ব্যবধানে আট উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় আমিরাত। শেষের উইকেটের মালিকও সেই কুলদ্বীপ যাদব। কট বিহাইন্ডে আটক হায়দার আলি। কুলদ্বীপের ঝুলিতে দিনশেষে চার উইকেট। খরচা মাত্র সাত রান।

একজন আনঅর্থোডক্স বোলার এভাবেই ম্যাচের পুরো দৃশ্যপট বদলে দিতে পারেন চোখের পলকে। এ কারণেই তো বিশ্বব্যাপী ভিন্নধর্মী বোলারদের এতটা কদর। কুলদ্বীপরা তাই সমাদৃত হন নিজেদের পারফরমেন্সের কল্যাণে। তাদের চাহিদা তাকে আকাশচুম্বী।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link