স্পিনের জালে বন্দি লিটন দাস!

লিটন দাসের এশিয়া কাপ যেভাবে শুরু হয়েছিল, সময়ের সাথে তা বিবর্ণ রূপ ধারণ করছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে যা পৌঁছেছিল চরম পর্যায়ে। ফর্মে থাকা লিটনের ক্রমশ ছন্দহীন হয়ে পড়ার কারণ আসলে কি? উত্তরটা স্পিন দুর্বলতা!

লিটন দাসের এশিয়া কাপ যেভাবে শুরু হয়েছিল, সময়ের সাথে তা বিবর্ণ রূপ ধারণ করছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে যা পৌঁছেছিল চরম পর্যায়ে। ফর্মে থাকা লিটনের ক্রমশ ছন্দহীন হয়ে পড়ার কারণ আসলে কি? উত্তরটা স্পিন দুর্বলতা!

এশিয়া কাপের আগেও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন লিটন দাস। হংকংয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচেই ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন তিনি। ৩৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেই যেন জানিয়ে দিয়েছিলেন, মহাদেশীয় আসরে আবারও আস্থার প্রতীক হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

লঙ্কানদের সাথে যদিও ২৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন লিটন, অন্যদের অপারগতায় যা ছিল মন্দের ভালো। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে একেবারেই অচেনা চেহারায় ধরা দিলেন তিনি। ১১ বলে মাত্র ৯ রান করে নুর আহমেদের বলে ফিরতে হলো তাঁকে। শুধু রানই এলো না এমনটি নয়, স্ট্রাইক-রেটও নেমে গেল শতকের নিচে।

প্রশ্নটা উঠতেই পারে—আসলে কি আফগানিস্তানের বিপক্ষেই লিটনের আলাদা কোনো সমস্যা আছে? পরিসংখ্যান কিন্তু সে কথাই বলছে। ভারতের বিপক্ষে তাঁর স্ট্রাইক-রেট প্রায় ১৫০, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ১২০–এর ওপরে। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে নামতে নামতে তা দাঁড়িয়েছে ১০৮.২৫–এ। যা তাঁর ক্যারিয়ার স্ট্রাইক-রেটের চেয়ে প্রায় ১৮ শতাংশ কম।

কেন এমনটা ঘটে? উত্তর লুকিয়ে আছে আফগানদের স্পিন আক্রমণে। লিটনের ক্যারিয়ারের টি-টোয়েন্টি রেকর্ড বলছে, পেসারদের বিপক্ষে তাঁর গড় ২৭.১৮, স্ট্রাইক-রেট ১৩৩.৮১। সেখানে স্পিনারদের বিপক্ষে গড় নেমে আসে ২১.৮৭–এ, আর স্ট্রাইক-রেট ১১৭.১৮–এ। বাউন্ডারির সংখ্যাতেও পার্থক্য স্পষ্ট—পেসারদের বিপক্ষে যেখানে ১৫১টি চার ও ৫৩টি ছক্কা, সেখানে স্পিনারদের বিপক্ষে ৯২টি চার ও মাত্র ২৫টি ছক্কা।

আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণ বরাবরই স্পিন-প্রধান। রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, নুর আহমেদের মতো বিশ্বমানের স্পিনাররা একসঙ্গে থাকেন তাঁদের একাদশে। তিনজন ফ্রন্টলাইন সিমার নামানোর প্রবণতা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ওপর চাপ ধরে রাখেন ঘূর্ণির ঘেরাটোপে। আর সেখানেই ঘায়েল হয়েছিলেন লিটন দাস।

এক্ষেত্রে স্পিনে লিটনের দুর্বলতা পুরোপুরি খোলাসা হলো। লিটন টাইমিং নির্ভর ক্রিকেটার, পেসারদের সামলানো তাঁর জন্য কিছুটা হলেও সহজ। তবে পরীক্ষা দিতে হয় কোয়ালিটি স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কা ম্যাচে হাসারাঙ্গার হাতে উইকেট দিয়ে এসেছিলেন। আফগানদের বিপক্ষেও একই ঘটনা। যদি বাংলাদেশ সুপার ফোরে কোয়ালিফাই করতে পারে সেক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ লিটনের এই স্পিন দুর্বলতা নিয়েই গুটি সাজাতে চাইবে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের জন্য লিটনের ফর্ম কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সুযোগ হলে আসরের বাকি ম্যাচগুলোতে স্পিন রহস্যের জাল কেটে বের হতে হবে লিটনকে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link