লিটনের মোটে পঞ্চম সেঞ্চুরি! অভাগা কিংবা পরিকল্পনার শিকার

লিটন ক্যালিবারের একজন ব্যাটারের টেস্ট সেঞ্চুরির সংখ্যা এক অঙ্কের ঘরে ঘুরপাক খাওয়া ভীষণ বেদনাতুর এক ঘটনা বটে।

১৫ ইনিংস পর লিটন দাসের ব্যাট থেকে এলো সেঞ্চুরি। টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন বাংলাদেশি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। সংখ্যাটা বেশ হতাশাজনক বটে। লিটন ক্যালিবারের একজন ব্যাটারের টেস্ট সেঞ্চুরির সংখ্যা এক অঙ্কের ঘরে ঘুরপাক খাওয়া ভীষণ বেদনাতুর এক ঘটনা বটে।

তবে টেস্ট দলে লিটনের দায়িত্বকে বর্ণনা করলেই বরং- এই বেদনা খানিকটা উপশম পাওয়া যেতে পারে। টেস্টে লিটন ওপেনার হিসেবে খুব বেশি ইনিংস খেলেননি। মোটে আটটি টেস্ট ম্যাচে তিনি টপ অর্ডারে ব্যাট করেছেন। তার সাদা পোশাকের ক্যারিয়ারের সিংহভাগই তিনি খেলেছেন ছয় ও সাত নম্বর ব্যাটার হিসেবে। ম্যাচের সংখ্যা ৪৬টি।

লিটনের উপর মূল দায়িত্বই থাকে দ্বিতীয় নতুন বল সামলে নেওয়া। ইনিংসের ৮০ ওভারের পর, প্রতিপক্ষের পেসাররা নতুন রেডচেরি হাতে ত্রাসের সৃষ্টি করেন- সেই ত্রাস সামাল দেওয়ার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে লিটনের কাঁধে। তাছাড়া যেহেতু তিনি ব্যাটিং অর্ডারে বেশ নিচের দিকে ব্যাটিং করেন- সেহেতু তাকে অধিকাংশ সময়েই দলের প্রয়োজনে আগ্রাসী মানসিকতায় ব্যাট চালাতে হয়।

আর মূলত সে কারণেই লিটন অধিকাংশ সময়ে নিজের ইনিংস বড় করার চাইতে, দ্রুত দলের পক্ষে রান সংগ্রহের দিকে মনোযোগ দেন। সে কারণেই হয়ত সেঞ্চুরি তার কপালে হরহামেশাই জোটে না। এই যেমন চলতি বছরেও তিনি ৯০ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। গলের সেই ইনিংসটি বাংলাদেশকে টেস্ট ড্র করার ক্ষেত্রে বেশ বড়সড় সহয়তাই করেছিল।

তবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে  মিরপুর টেস্টে লিটনের সেঞ্চুরিটা একটু তার স্বাভাবিক খেলার ধরণ থেকে বেড়িয়ে এসেই করেছেন। যেহেতু হাতে পর্যাপ্ত সুযোগ ও সময় দু’টোই ছিল। সে কারণে লিটন ইনিংসকে যতটা সম্ভব বড় করার দিকেই দিয়েছেন মনোযোগ। তাতে করে ১৫৮ বল পরে গিয়ে শত রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন লিটন। মধ্যাহ্ন বিরতির পর তার ব্যাটিং গিয়ার পরিবর্তন প্রায় অনুমিত।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link