স্বেচ্ছাচারিতার পাহাড়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস অবশেষে মুখ খুললেন। আর সেই কথাতেই যেন ফুটে উঠল দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা। জানালেন, তাকে কোনো আলোচনার সুযোগই দেওয়া হয় না—হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় একটা দল। না থাকে অধিনায়কের মতামত, না থাকে কোনো ‘ক্যাপ্টেন্স কল’।
টি-টোয়েন্টি দল থেকে শামীম হোসেন পাটোয়ারিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত লিটনকে নাড়া দিয়েছে। তার চোখে শামীমকে দলে রাখাই ছিল ভালো সিদ্ধান্ত। তবুও তাকে জানানো হয়নি কিছুই। যেন নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াই চলে অধিনায়কের অজান্তে। তাঁর জায়গায় যাকে নেওয়া হয়েছে সেই মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন।
লিটনের আক্ষেপ তাই সরল, কিন্তু তীক্ষ্ণ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে তিনি বলেন, ‘এটা হতাশাজনক। প্রত্যেক খেলোয়াড় থেকে প্রতিটি সিরিজে পারফরম্যান্স আশা করা যায় না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দলটাকে গুছানোর চেষ্টা করেছি। শামীম এক সময়ে দুই-তিনটি সিরিজে অসাধারণ খেলেছে, যেটা আমাদের দরকার ছিল। সেখান থেকে তাকে বাদ পড়তে দেখাটা তার জন্যও হতাশাজনক, আমার জন্যও। আমি প্রতিদিন ১৫ জনের কাছ থেকে পারফরম্যান্স আশা করি না। কয়েক সিরিজ খারাপ গেলে তাকে সাপোর্ট দেওয়া উচিত। আমি সত্যিই দু:খিত, তাকে ব্যাক করতে পারিনি।’

লিটনের এই স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ এক কারণেই—বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে খুব কম অধিনায়কই এত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তাদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে দল গঠন করা হয়। এর আগে ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ে সিরিজের সময় সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, ‘এটা আমার নয়, নির্বাচকদের দল।’ আর ২০১৪ সালের এশিয়া কাপের আগে একই সুরে কথা বলেছিলেন মুশফিকুর রহিমও।
অধিনায়করা একের পর এক একই অভিযোগ তুলছেন—তাদের মতামত উপেক্ষিত, সিদ্ধান্ত আসে ওপর থেকে, প্রক্রিয়ায় নেই সমন্বয়। লিটনও এবার সেই বাস্তবতা তুলে ধরলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সমন্বয়হীনতা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং জবাবদিহির অভাব কতটা গভীরে পৌঁছে গেছে—অধিনায়কদের এই অভিযোগই তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ।
প্রকাশ্যে এসব বলার দায়ে লিটন অধিনায়কত্ব হারাতেও পারেন, সেই বাস্তবতাও আছে। বাস্তবতা মেনেই মুখ খুলেছেন লিটন। দেখা যাক, এবার লিটন কতক্ষণ নিজের স্টান্ট ধরে রাখতে পারেন।











