আসরের শুরুটা ঠিক যেমনটা চেয়েছিল লখনৌ সুপার জায়ান্টস, চিত্রনাট্য মিলল তার উল্টো। ঘরের মাঠ একানা স্টেডিয়ামে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে ছয় উইকেটের হার কেবল পয়েন্ট টেবিলই নয়, বরং লখনৌ শিবিরের ভেতরের সমীকরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিল। তবে হারের চেয়েও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচ শেষে ডাগআউটের কাছে মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কা ও অধিনায়ক ঋষভ পান্তের মধ্যকার সেই রহস্যময় কথোপকথন।
টস ভাগ্যে যা-ই থাক, ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শুরুতেই পথ হারায় লখনৌ। যে ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে প্রত্যাশার পারদ চড়েছিল, তা থমকে গেল মাত্র ১৪১ রানেই। টপ অর্ডারে অধিনায়ক ঋষভ পান্তের সাথে এইডেন মার্করাম কিংবা নিকোলাস পুরান কারও ব্যাটেই দেখা মেলেনি সেই চেনা রুদ্রমূর্তি। বোলাররা শুরুতে কিছুটা আশা দেখালেও দিল্লির সমীর রিজভীর দুর্দান্ত ৭০* এবং ট্রিস্টান স্টাবসের ৩৯* রানের লড়াকু ইনিংস ১৭.১ ওভারেই খেলা জিতে নেয়।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ক্যামেরার লেন্স যখন ডাগআউটে স্থির হলো, তখন এক পরিচিত কিন্তু বিতর্কিত দৃশ্য ফিরে এল ক্রিকেট ভক্তদের চোখে। লখনৌ অধিপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কাকে দেখা গেল অধিনায়ক পান্তের সাথে গভীর আলোচনায় মগ্ন। শব্দের আদান-প্রদান শোনা না গেলেও, গোয়েঙ্কার অভিব্যক্তিতে ঝরে পড়ছিল অসন্তুষ্টি। ক্রিকেটাঙ্গন যেন মুহূর্তেই ফিরে গেল ২০২৪ সালে, যেখানে ঠিক একইভাবে লোকেশ রাহুলের সাথে গোয়েঙ্কার প্রকাশ্য বাদানুবাদ ঝড় তুলেছিল।

এবার পান্ত নিজেকে ব্যাটিং অর্ডারের ওপরের দিকে প্রোমোট করেছিলেন, যা নিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। দুর্ভাগ্যের রান-আউট সেই সিদ্ধান্তকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুনের বদলে জল ঢালার চেষ্টা করেছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক। নিজের ‘এক্স’ একাউন্টে গোয়েঙ্কা লেখেন, ‘মৌসুমটা অনেক দীর্ঘ। বড় কিছু নির্মাণের পথে এমন মুহূর্ত আসা অস্বাভাবিক নয়। আমাদের অধিনায়ক ও দলের ওপর আমার অগাধ বিশ্বাস আছে। আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব।’
লখনৌ এর জন্য এটি কেবল একটি হার নয়, বরং নিজেদের রণকৌশল পুনর্বিবেচনা করার একটি সংকেত। ব্যাটিং অর্ডার থেকে শুরু করে দলের ভারসাম্য – সবকিছুই এখন কাঁটাছেঁড়া করার সময়। একানার গ্যালারিতে আজ নিস্তব্ধতা থাকলেও, সামনের ম্যাচগুলোতে পান্তের নেতৃত্ব ও গোয়েঙ্কার ধৈর্য কতটা অটুট থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।











