মেহেদীর নিজেকে সেরা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ

মাহেদীর উপর রয়েছে বাড়তি দায়িত্ব ও প্রত্যাশার চাপ। তিনি কি তা সামলাতে পারবেন? 

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের একাদশে শেখ মেহেদী প্রাইমারি স্পিনার। প্রায় প্রতিটা ম্যাচে তার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত। কেননা তার কারণে একজন বাড়তি বোলার ও ব্যাটার যুক্ত করা যায় একাদশে। কন্ডিশন আর প্রতিপক্ষ বিবেচনায় রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদের মধ্যে হবে বদল। সুতরাং মেহেদীর উপর রয়েছে বাড়তি দায়িত্ব ও প্রত্যাশার চাপ। তিনি কি তা সামলাতে পারবেন?

শেখ মেহেদীর ইউএসপি কি? তিনি কি উইকেট টেকার নাকি কৃপণ বোলার? ইকোনমিক্যাল বোলার হিসেবেই তিনি প্রসিদ্ধ। রানের চাকায় লাগাম টেনে ধরাই তার কাজ। কিন্তু চলতি বছরে তার হয়েছে ছন্দচ্যুতি। রান আটকে রাখতে তিনি রীতিমত হিমশিম খেয়েছেন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তার ইকোনমি রেট ৬.৭৯। গত বছরে যেখানে তিনি ৬.৮২ ইকোনমিতে রান দিয়েছেন, এই বছর সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.১৪-এ।

অতএব একটা শঙ্কা নিশ্চয়ই সৃষ্টি হয়েছে- এশিয়া কাপে তার কাছ থেকে আশানুরুপ ফলাফল মিলবে তো? এই প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর দেওয়া বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। কেননা চলতি বছরে আরব আমিরাতে দুই ম্যাচে ৯১ রান হজম করার মত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। এছাড়া আরও তিনটি ম্যাচে ৩৬ এর বেশি রান খরচা করেছেন মেহেদী।

এর মূল কারণ শিশির। শিশিরের কারণে বল পিচ্ছিল হয়ে যায়। মেহেদী যেহেতু সিমের উপর বল করতে পছন্দ করেন, এমনকি সেটাই তার শক্তির জায়গা। তিনি জোরের উপর বল করেন, ফুলার লেন্থকে টার্গেট করেন। যাতে করে ব্যাটারদের রান করার স্বাচ্ছন্দ্য না পান। কিন্তু শিশিরের সময়ে বল ঠিকঠাক গ্রিপ হয় না। তখন লেন্থের তারতম্য ঘটে, মেহেদী বলের উপর থেকে তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। যার পরবর্তী স্টেপে তাকে বিশাল অঙ্কের রান হজম করতে হয়।

আরব আমিরাতের বিপক্ষে আট ওভারে ৯১ রান খরচার সিরিজটিতে শিশিরের মাঝেই বোলিং করতে হয়েছে মেহেদীকে। এছাড়াও পাকিস্তানের বিপক্ষের ঘরে-বাইরে সর্বত্রই শিশিরের হালকা-পাতলা প্রভাব ছিলই। সেসব ম্যাচে মেহেদীর বোলিং ফিগার দৃষ্টিকটু রুপ ধারণ করেছে দিনশেষে।

এর প্রতিকার হিসেবে অবশ্য বলকে পানিতে ভিজিয়ে অনুশীলন করেছেন মেহেদী। কিন্তু তার সামনে সুযোগ ছিল ম্যাচ পরিস্থিতিতে সেই অনুশীলন সেরে নেওয়ার। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিলেটে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সিরিজে শিশিরের প্রভাব ছিল ব্যাপক। সেই সিরিজে শিশিরের মধ্যে বল করার সুযোগ অবশ্য হয়ে ওঠেনি মেহেদীর। প্রস্তুতির ঘাটতি সুতরাং থাকছেই।

তবে এতটাও নিরাশ হওয়ার মত কিছু নেই। শিশিরের প্রভাবকে কোনভাবে নিজের পক্ষে নিয়ে আসতে পারলেই বাংলাদেশের তুরুপের তাস বনে যাবেন মেহেদী। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোর শেষ টি-টোয়েন্টিতে তিনি একাই তো চার উইকেট বাগিয়েছিলেন। সিরিজ জয়ের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছিলেন। এছাড়াও উইকেটের দেখা প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই পেয়েছেন।

কোন বড় টুর্নামেন্টে সফল হতে হলে প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে তবেই তো সফল হতে হয়। মেহেদী সামনে তাই থাকছে সুযোগ। এই প্রস্তুতির ঘাটতিকেও যারা বশে আনতে পেরেছেন, তারাই তো একটা সময় বিশ্ব শাসন করেছেন। এখন শেখ মেহেদীর নিজের সক্ষমতা আর দক্ষতা প্রদর্শনের এটাই তো সুবর্ণ সুযোগ।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link