শেখ মেহেদী যে অলরাউন্ডার, তা যেন প্রায়শই বেমালুম ভুলে যান অনেকেই। কিন্তু এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল), মেহেদী পারফরম করে যাচ্ছেন কার্যকর অলরাউন্ডার হিসেবে। দলকে নেতৃত্ব দিয়ে রেখেছেন পয়েন্ট টেবিলে সবার উপরে। ব্যাটে-বলে নিজেও দেখিয়ে যাচ্ছেন মুন্সিয়ানা। প্রত্যাশাহীন এক দলের কাছ থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন পারফরমেন্সের অবারিত ধারা।
এবারের বিপিএল নিলামের পর চট্টগ্রাম রয়্যালসের দলগঠন সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। শেখ মেহেদী ডাইরেক্ট সাইনিং হিসেবে হতাশও হয়েছিলেন বটে। কিন্তু জল্পনা-কল্পনা পেরিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দলটির দায়িত্ব নেওয়ার পর যেন প্রাণে পানি ফিরে পান শেখ মেহেদী। এরপর এক নব উদ্দ্যম নিয়ে তিনি নেমে পড়েন মাঠের লড়াইয়ে।
তার দল আট ম্যাচ খেলে তার দল জিতেছে ছয়টি ম্যাচ। ১২ পয়েন্টের সাথে রানরেটেও ঢের এগিয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। দলের বাকিদের উপর ছড়ি ঘুরিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি মেহেদী। যোগ্য নেতার মত নেতৃত্ব তিনি দিয়ে যাচ্ছেন সম্মুখ সারিতে থেকে। এখন পর্যন্ত আট ম্যাচে বোলিং করে ১০টি উইকেট বাগিয়ে নিয়েছেন শেখ মেহেদী।

৬.৫৮ ইকোনমিতে কৃপণতাও বজায় রেখেছেন। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর গতির ভেরিয়েশন করতে পারাই মূলত তার মূল অস্ত্র। সেই অস্ত্র দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বনে গেছেন। তবে ব্যাটিংটা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সমালোচনাও হয়েছে। সে সমালোচনা ঝেড়ে ফেলার একটা প্রয়াশ করে যাচ্ছেন শেখ মেহেদী।
ছয় ইনিংসে ব্যাট করে ১৫০ রান সংগ্রহ করেছেন। যার মধ্যে তিনটি ইনিংসেই তিনি থেকেছেন অপরাজিত। একজন লোয়ার মিডল অর্ডার হিসেবে খুব বেশি রান করার সুযোগ থাকে না। দায়িত্ব থাকে দ্রুত রান তোলার। সে কাজটায় অন্তত এবার তিনি সন্তুষ্ট করতে পারছেন বলা যেতে পারে। ১৫৬.২৫ স্ট্রাইকরেট তো তার স্বপক্ষেই কথা বলছে।
তার এমন পারফরমেন্স বাংলাদেশের জন্য আশা জাগানিয়া। উপমহাদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এমন কন্ডিশনে প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই একাদশে মেহেদীকে অন্তর্ভুক্ত করার কাজটা সহজ হয়ে গেল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য।












