একটু স্পিনিং ট্র্যাকে শেখ মেহেদী হাসান, আর ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজ। অকপটে নিজের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন টাইগারদের বর্তমান টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। কিন্তু শেখ মেহেদীর রয়েছে ভিন্ন মত।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেখ মেহেদী বাংলাদেশের একপ্রকার ‘ট্রামকার্ড’। তার বোলিং দক্ষতাই মুখ্য। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে তিনি করেছিলেন বাজিমাত। চার উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়তে সহয়তা করেছিলেন বাংলাদেশ দলকে।
তার অনবদ্য বোলিংয়ের কল্যাণে স্বল্প রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর আট উইকেটের বড় জয় পায় টাইগাররা। তাতে করে প্রথমবারের মত শ্রীলঙ্কার মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ঠিক এতটা ইম্প্যাক্ট রাখতে জানেন শেখ মেহেদী।

সেজন্য তার কন্ডিশনের মুখাপেক্ষী হতে হয় না বলেই অভিমত মেহেদীর। সম্প্রতি ক্রিকেটভিত্তিক এক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানিয়েছেন তিনি। স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন বিদেশের মাটিতে তার বোলিং পরিসংখ্যানকে।
তিনি বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে আমার পারফরম্যান্স দেখলে বুঝবেন, আমি খুব একটা খারাপ করিনি। আমার মনে হয় না যে আমি কেবল নির্দিষ্ট কিছু উইকেটের জন্য উপযুক্ত।’ তার এই বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণে পরিসংখ্যানে তাই ঢুঁ মারা প্রয়োজন।
এখন অবধি শেখ মেহেদী টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ৬১টি, যার ৫৯টি ইনিংসে তিনি বোলিং করেছেন। তার নামের পাশে উইকেট সংখ্যা ৫৬টি। অবশ্য উইকেট সংখ্যা দিয়ে তাকে বিচার করা খুব একটা সমীচিন নয়। তার বিশেষত্ব হচ্ছে কৃপণতা। বল হাতে তিনি রান বিলাতে চাননা। এছাড়াও ক্যারিয়ারের সাথে বেড়েছে তার উইকেট প্রাপ্তির গুণ।

তাছাড়া নতুন বলে বল করতে পারার দক্ষতা তাকে বাকিদের তুলনায় আলাদা করেছে। যথাযথ লাইনলেন্থে তিনি প্রতিপক্ষের রানের ধারায় ভাটার সৃষ্টি করতে পারেন, সে কারণে তার কদরও বেড়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। বিদেশের মাটিতে ৩৫টি ম্যাচ খেলেছেন শেখ মেহেদী হাসান।
এশিয়ার বাইরে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রে বোলিং করেছেন। এই চার দেশে তিনি ম্যাচ খেলেছেন ১৯টি। উইকেট নিয়েছেন ২১টি। সর্বাধিক ১০টি উইকেট নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট নিউজিল্যান্ডে, আটটি।
এশিয়ার বাইরে তার বোলিং ইকোনমি ৬.৭৫। অতএব তার বক্তব্য একেবারেই ফেলনা নয়। তিনি যেকোন উইকেটেই কার্যকর বোলিং করতে জানেন। সুতরাং স্রেফ কন্ডিশন বিবেচনায় তাকে একাদশের বাইরে রাখা মোটেও যুক্তি সংগত নয়। বরং প্রয়োজন ও ইম্প্যাক্ট বিবেচনায় তিনি হতে পারেন বিবেচিত।












