দুর্বার প্রলয়, এইডেন মার্করাম নিজেই যেন এক ধ্বংসযজ্ঞ। ব্ল্যাকক্যাপস বোলারদের তুলোধুনো করলেন তিনি। তুলে নিলেন টুর্নামেন্টের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি। দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার হিসেবে বিশ্বকাপের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ডটাও গড়েন মার্করাম। বাইশ গজে দাঁড়িয়ে রীতিমত করলেন তিনি তাণ্ডবনৃত্য।
দুই হেভিওয়েট দলের জম্পেশ লড়াই। ব্যাট হাতে নিউজিল্যান্ডও দেখিয়েছে দাপট। তবে দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক ছেড়ে কথা বলেননি এক ফোঁটাও। ম্যাট হেনরি ও লোকি ফার্গুসনদের স্তব্ধ করে দিয়ে আহমেদাবাদে চলেছে স্রেফ মার্কারামের ব্যাটের নিনাদ। ঠিক যেন হেভিমেটাল রক কনসার্ট।

মাত্র ১৯টা বল লেগেছে তার ফিফটির ওপারে পৌঁছাতে। ৪৮ রানের মাথায় দাঁড়িয়ে সোজা ব্যাটে খেললেন লফটেড ড্রাইভ। হালকা সরে, লং অন দিয়ে বল চলে যায় সীমানার ওপারে। ততক্ষণে ছয় খানা চার, আর সেই সাথে চার খানা ছক্কা হাঁকিয়ে ফেলেন প্রোটিয়া কাপ্তান। তবে এরপর একটু ব্যাটিং গিয়ারে পরিবর্তন আনলেন।
সতীর্থদের বিদায়ে দলের হাল ধরে ম্যাচটা শেষ করে আসার ব্রত নিলেন। ততক্ষণে অবশ্য জয়ের সমীকরণ অতি সরল হয়ে গিয়েছিল প্রোটিয়াদের জন্য। স্রেফ কোন ধরণের বিপর্যয় ঘটলেই কেবল পরাজিত হতে হতো। সেই ভাবনা থেকেই অতিরিক্ত আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টা মার্করাম আর করেননি। বরং দল যেন কক্ষচ্যুত না হয়- সে চেষ্টা করে গেছেন।

এবং শেষ অবধি দলের জয় নিশ্চিত করেই তিনি মাঠ ছেড়েছেন। তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল তখন ৮৬ রান। একটু চেষ্টা করলেই হয়ত তিনি পেরিয়ে যেতে পারতেন শতরানের গণ্ডি। তিনি যখন ফিফটি হাঁকান তখন তার দলের সংগ্রহ ছিল ৯৬। তবে ব্যক্তিগত গ্লোরি নয়, তিনি বেছে নিলেন দলের জয়। তাইতো শেষ অবধি ঝুঁকিহীন ব্যাটিং করে টিকে ছিলেন শেষ অবধি, খেলেছেন ৪৪টি বল। একজন যোগ্য দলনেতা হিসেবেই তিনি লড়ে গেছেন।











