এমবাপ্পে কি পারবেন রোনালদোর রেকর্ড ভাঙতে?

চলতি সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাবেক ক্লাব মোনাকোর বিপক্ষে ৬-১ গোলের দাপুটে জয়ে জোড়া গোল করেন এমবাপ্পে। ফলে চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ তে। তাও মাত্র ছয় ম্যাচে। এমন ধারাবাহিকতায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এক মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের ঐতিহাসিক রেকর্ড কি এবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে?

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন ফরম্যাটে এখন ম্যাচ বেড়েছে, আর ম্যাচ বাড়লে গোলের সম্ভাবনাও বাড়ে। আগের গ্রুপ পর্বের ছয় ম্যাচের বদলে নতুন লিগ পর্বে দলগুলো খেলছে আটটি ম্যাচ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্লে অফ রাউন্ড, যা একাই যোগ করেছে আরও ১৬টি ম্যাচ। এই বিস্তৃত মঞ্চে নিশ্চিতভাবেই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা পাচ্ছেন নিজেদের নাম উজ্জ্বল করার বাড়তি সুযোগ। এই সুযোগটাই যেন পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।

চলতি সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাবেক ক্লাব মোনাকোর বিপক্ষে ৬-১ গোলের দাপুটে জয়ে জোড়া গোল করেন তিনি। ফলে চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ তে। তাও মাত্র ছয় ম্যাচে। এমন ধারাবাহিকতায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এক মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের ঐতিহাসিক রেকর্ড কি এবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে?

এক মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখনো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে। ২০১৩-১৪ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে পর্তুগিজ মহাতারকা করেছিলেন ১৭ গোল। শুধু শীর্ষেই নয়, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানেও রয়েছেন রোনালদোই। ২০১৫-১৬ মৌসুমে তার গোল ছিল ১৬টি, আর ২০১৭-১৮ মৌসুমে করেন ১৫ গোল।

এই তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছেন বর্তমান বার্সা তারকা রবার্ট লেভানডভস্কি। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২০১৯-২০ মৌসুমে তিনি করেছিলেন ১৫ গোল। একই সংখ্যক গোল করেন করিম বেনজেমা, ২০২১-২২ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে। ষষ্ঠ স্থানে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। ২০১১-১২ মৌসুমে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ১৪।

তালিকার সপ্তম স্থানে আবারও লেভানডভস্কি, ২০২১-২২ মৌসুমে করেছেন ১২টি গোল। অষ্টম ও নবম স্থানে রয়েছেন বার্সেলোনার রাফিনিয়া এবং বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সেরহু গিরাসি।গত মৌসুমে দুজনেই করেছেন ১৩টি করে গোল।

এই ঐতিহাসিক নামগুলোর ভিড়ে এমবাপ্পে ইতিমধ্যেই ১১ গোল নিয়ে উঠে এসেছেন ১৭তম স্থানে। সামনে তাঁর সুযোগ আরও বড় হতে পারে। যদি রিয়াল মাদ্রিদ প্লে-অফ পর্বে নামতে বাধ্য হয় এবং সেখান থেকে ফাইনাল পর্যন্ত পথচলা অব্যাহত রাখে, তাহলে এমবাপ্পের সামনে থাকতে পারে আরও সর্বোচ্চ ১০টি ম্যাচ।

সেই ম্যাচগুলোই হয়তো ঠিক করে দেবে – চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক মৌসুমে গোলের রাজত্ব কি এবার নতুন কোনো নাম লিখতে যাচ্ছে, নাকি ইতিহাসের মুকুট আগের মতোই রোনালদো-মেসির যুগেই রয়ে যাবে।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link