যদি ম্যাককালাম হন ভারতের কোচ আর গম্ভীর ইংল্যান্ডের!

মাঠের লড়াইয়ে দুজনই ছিলেন দাপুটে ওপেনার, আর এখন ডাগ আউটে বসে সামলাচ্ছেন ভারত ও ইংল্যান্ডের মতো দুই শক্তিশালী দলের কোচের দায়িত্ব। যদি কোনো এক রূপকথার জাদুবলে এই দুই মাস্টারমাইন্ড তাদের আসন অদলবদল করে নিতেন, তবে কেমন হতো সেই দৃশ্যপট?

ক্রিকেট মানচিত্রের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র – গৌতম গম্ভীর এবং ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। মাঠের লড়াইয়ে দুজনই ছিলেন দাপুটে ওপেনার, আর এখন ডাগ আউটে বসে সামলাচ্ছেন ভারত ও ইংল্যান্ডের মতো দুই শক্তিশালী দলের কোচের দায়িত্ব। যদি কোনো এক রূপকথার জাদুবলে এই দুই মাস্টারমাইন্ড তাদের আসন অদলবদল করে নিতেন, তবে কেমন হতো সেই দৃশ্যপট?

দেড় বছর ধরে গম্ভীর ভারতীয় দলের দায়িত্বে। এই সময়ে সীমিত ওভারে সাফল্য এলেও, ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে ভারত অস্বস্তিতে পড়েছে। ঘন ঘন দল বদল, কঠোর শৃঙ্খলা ও আপসহীন মানসিকতা অনেক খেলোয়াড়ের কাছেই বিভ্রান্তিকর বলে মনে হয়েছে।

অন্যদিকে ম্যাককালাম ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচ হন এবং ২০২৪ সালে সাদা বলের দলগুলোর দায়িত্বও নেন। তাঁর ‘বাজবল’ দর্শন শুরুতে আলোড়ন তুললেও, সাম্প্রতিককালের ভরাডুবির পর সেই দর্শনই প্রশ্নের মুখে।

এই প্রেক্ষাপটে ভূমিকা বদলের কল্পনা করলে ম্যাককালামের অধীনে ভারতীয় ক্রিকেটাররা হয়তো পাবেন নিরাপত্তা ও স্পষ্ট আস্থার পরিবেশ। তিনি খেলোয়াড়দের বিশ্বাস করেন, ধারাবাহিকতা দেন এবং নির্দিষ্ট খেলাধারা গড়ে তুলতে চান। এমন পরিবেশে ভারতের মতো পরিণত দল হয়তো আরও আত্মবিশ্বাসী ও স্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে চিত্রটা ঠিক উল্টো। মাঠের বাইরের শৃঙ্খলাহীনতা, অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগ থেকে শুরু করে নাইট ক্লাব বিতর্ক। এসবই ইঙ্গিত দেয় যে কেবল স্বাধীনতা নয়, কঠোর নিয়ন্ত্রণও প্রয়োজন। এখানেই গম্ভীর হয়ে উঠতে পারেন উপযুক্ত চরিত্র।

গম্ভীর কঠোর শাসনে বিশ্বাসী, অপরদিকে ম্যাককালাম নিখাদ আস্থা রাখার প্রতীক। ইংল্যান্ডের মতো স্বাধীনচেতা দলের দরকার প্রথমটি, আর ভারতের দ্বিতীয়টি।

ক্রিকেট যতটা না মাঠের খেলা, তার চেয়েও বেশি মানসিক শক্তির খেলা। ইংল্যান্ডের এখন প্রয়োজন শাসন মিশ্রিত ভালোবাসা যা গম্ভীর দিতে পারেন, আর ভারতের হয়তো প্রয়োজন স্রেফ ‘ভালোবাসা’ যা ম্যাককালামের ভাণ্ডারে অফুরন্ত।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link