একজন মহাতারকা নিজের সব অর্জনের বিনিময়ে একটিমাত্র ট্রফির জন্য অপেক্ষা করেছিলেন বছরের পর বছর। লিওনেল মেসির জীবন নামের সেই গল্পের নায়ক। ব্যক্তিগত সব স্বীকৃতি, অজস্র রেকর্ড, অগণিত গোল—সবকিছুর পরও তার চোখে ছিল একটাই স্বপ্ন, বিশ্বকাপ জয়ের। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল ২০২২ সালে, কাতারের বালুকাময় মরুভূমিতে।
বুধবার মায়ামিতে অনুষ্ঠিত আমেরিকা বিজনেস ফোরামে মেসির হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘শহরের চাবি’। মায়ামির মেয়র ফ্রান্সিস সুয়ারেসের সঙ্গে আলাপচারিতায় সেই অবিস্মরণীয় রাতের স্মৃতি আবারও ফিরে এল আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির অধিনায়কের কথায়।
মেসি বললেন, ‘বিশ্বকাপ জয়ের সময় আমার ঠিক সেই অনুভূতি হয়েছিল, যেমনটা হয়েছিল আমার সন্তানদের জন্মের সময়। এটা এমন এক অনুভূতি, যা ব্যাখ্যা করা যায় না—খুবই বিশেষ, এতটাই অসাধারণ যে, আমি যাই বলব কম হয়ে যাবে।’

দীর্ঘ ১৬ বছরের বিশ্বকাপ যাত্রা—২০০৬ সালে জার্মানিতে অভিষেক, ২০১৪-তে রিও দে জেনেইরোতে ফাইনালের কষ্ট, ২০১৮-তে হতাশা। অবশেষে ২০২২ সালে কাতারে ফুটল সেই অপূর্ণ ফুল। নাটকীয় ফাইনালে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা যখন তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, মেসির চোখে জল এসে যায়। আর সেই মুহূর্তটিই হয়ে ওঠে তার জীবনের পরম পূর্ণতা।
মেসির ভাষায়, ‘বিশ্বকাপ জেতা চূড়ান্ত অর্জন। এর পর একজনের আর চাওয়ার কিছু থাকে না। ব্যক্তিগত দিক থেকে, আমার পরিবারের জন্য, সতীর্থদের জন্য আর দেশের জন্য এই শিরোপার মানে কতটা, সেটা ভাষায় বোঝানো যায় না। পুরো জাতি যেভাবে উদযাপন করেছিল, তাতেই বোঝা যায় এই সাফল্যের মাহাত্ম্য।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান যে ক্লাব পর্যায়ে সবকিছু জিতেছি। শুধু এই একটি ট্রফি বাকি ছিল। বিশ্বকাপ জেতার পর মনে হয়েছে — আমার ক্যারিয়ার এখন সম্পূর্ণ।’

হয়তো সত্যিই তাই। কারণ ফুটবলের রাজপুত্রের গল্পে এখন আর কোনো শূন্যতা নেই। যে শিরোপার জন্য তিনি অপেক্ষা করেছিলেন এক যুগেরও বেশি সময়, সেটি হাতে নিয়েই লিওনেল মেসি পেরিয়েছেন সীমারেখা—একজন খেলোয়াড় থেকে হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তি।










