বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে গেছে। অবশ্য জিততে পারত আরও সহজেই। এভাবে জিতে এসে অধিনায়কত্ব নিয়ে বাহবা দেওয়া না। তানভির ইসলাম আর শামিম হোসেন পাটোয়ারির রুদ্ধশ্বাস বোলিংয়ে ম্যাচ যখন বাংলাদেশের দিকে ঘুরে গেছে, তখনও ৪৯ তম ওভারে গিয়ে জয় নিশ্চিত করা শুধুই নেতৃৃত্বের ব্যর্থতার বহি:প্রকাশ। আক্রমণের লাগামটা অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ আগেই ছেড়ে দিয়েছিলেন।
একটা সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ ছিল আগ্রাসী। তানভিরের স্পিনে যখন নিশান মাদুশকা আর কুশল মেন্ডিস ছিটকে পড়েন, তখন শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ যেন হঠাৎ শেকলে বাঁধা পড়ে। শামিম-তানভিরের পরের ৩১ বল থেকে আসে মাত্র ৮ রান। সেই সময়টায় তানভির ছিল অপ্রতিরোধ্য—শ্রীলঙ্কা পুরোপুরি ব্যাকফুটে। ঠিক তখনই বাংলাদেশও পিছিয়ে গেল।
৩৫ ওভারের পর যেন এক অলিখিত নির্দেশ আসে সাবধানতা অবলম্বনের। বাংলাদেশ হয়ে পড়ে অতি-সাবধানী। লঙ্কানদের তখন ৯০ বলে দরকার ৯৪ রান। অথচ বাংলাদেশ পড়ে গেল আত্মরক্ষার খোলসে। চারপাশে ছড়িয়ে দেওয়া হলো ফিল্ডার, যেন কেউ একটা সিঙ্গেল নিলেও আহামরি কিছু করে ফেলেছে।

সবচেয়ে হতাশাজনক মুহূর্তটি আসে যখন দশম ব্যাটার দুশমন্থ চামিরা ক্রিজে। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান, কিন্তু তাকে একটাও শর্ট মিড উইকেট দিয়ে চেপে ধরার সাহস করেননি অধিনায়ক! চামিরা বারবার লেগ সাইডে ঠেলে সিঙ্গেল নিচ্ছিল, অথচ সেখানে কোনো ফিল্ডার আনাও হয়নি।
চামিরা সুযোগ পেলেন। সেটেল হয়ে গেলেন। জানিথ লিয়ানাগে ম্যাচটা প্রায় বের করে ফেলেছিলে। তখনই শুরু হল বাংলাদেশের টেনশন, সেই হেরে যাওয়ার আতঙ্ক। অন্তিম মুহূর্তে কোনোক্রমে লাগাম টানতে পারলেন পেসাররা। হাসান মাহমুদ, তানজিম হাসান সাকিব বিস্তর রান হজম শুরু করেছিলেন, কিন্তু মুস্তাফিজ লিয়েনাগের উইকেট পেতেই সব শেষ।
শেষমেশ তানভির-শামিমের লড়াকু স্পেল আর বডি ল্যাঙ্গুয়েজে জয় এলেও, অধিনায়কত্বে যে খামতি ছিল প্রচুর, সেটা তো ঢাকা পড়ে না। সেফ ক্রিকেট খেলে, সব সময় মিরাজ ম্যাচ জিততে পারবেন না। এই ম্যাচটা যদি হারত বাংলাদেশ, তাহলে পোস্টমর্টেম হতো ওই ৩৫ থেকে ৪৫ তম ওভারের মধ্যে কেন ফিল্ডিং ছড়ানো হলো, সেটা নিয়েই।

তাই জয় এসেছে ঠিকই, কিন্তু এরকম ‘ভয় বুকে নিয়ে খেলা’ অধিনায়কত্বের প্রশংসা করা যায় না। অধিনায়কত্বে কিংবা আক্রমণে যদি আরও সাহস দেখানো যেত, তাহলে জয়টা আরও বড় হত।










