২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক হবেন কে? এমন একটা প্রশ্ন এখনই তোলা যায় চাইলেই। কেননা মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্ব নিয়ে তো উঠেছে প্রবল প্রশ্ন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইট ওয়াশ লজ্জা হয়েছিল মিরাজের দলের সঙ্গী। তাই স্বাভাবিকভাবেই সংশয় জেগেছে তার হাতে নেতৃত্বের দায়িত্ব থাকবে কি?
পঞ্চপাণ্ডব পরবর্তী সময়ে, মোট তিনজন ভিন্ন ক্রিকেটার বাংলাদেশের ওয়ানডে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এদের মধ্যে কেউই সেই অর্থে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত বর্তমানে মিরাজ, সবাই রীতিমত জয়ের নেতৃত্ব দেওয়া যেন ভুলে গেছে। লিটনের নেতৃত্বে সাত ম্যাচের তিনটিতে জিততে পেরেছে বাংলাদেশ।
শান্তর অধীনে জিতেছে ১৩ ম্যাচের মধ্যে চারটি। মিরাজের তত্বাবধানে ১৩ ম্যাচ খেলে তিনটি জিতেছে ওয়ানডে দল। গত বছরের জুলাই মাসে এক প্রকার হুট করেই মিরাজের কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছিল ওয়ানডে দলের দায়িত্ব। এরপর টানা তিনটি সিরিজে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে জিতেছেন স্রেফ একটি সিরিজে।

তবে লজ্জার মাত্রা বাড়িয়েছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইট ওয়াশ হওয়া। আফগানদের বিপক্ষে সেই সিরিজটায় কোন প্রকার প্রতিরোধই গড়তে পারেনি বাংলাদেশ দল। স্যাম্পল সাইজ এখনও মিরাজকে বিচার করার জন্য যথেষ্ট নয় বটে। কিন্তু এই একই স্যাম্পল সাইজে নাজমুল হোসেন শান্তকে হুট করেই দেওয়া হয়েছে অব্যাহতি। তাতে করে মিরাজের অধিনায়কত্বের সময় হুট করে ফুরিয়ে এলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।
কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে, অধিনায়ক হবেন কে? সহজ সমাধান হিসেবে আবারও শান্তর হাতে ফেরানো হতে পারে দায়িত্ব। কেননা মাঠের ভেতরে শান্তর নেতৃত্বগুণ সর্বত্রই প্রশংসা কুড়িয়েছে। এমনকি সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) তিনি রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সের মত তারুণ্য নির্ভর একটা দলকে জিতিয়েছেন শিরোপা।
সেদিক থেকে মিরাজকে সর্বদাই উচ্ছ্বসিত দেখা গেলেও, মাঠের ভেতরে তার সিদ্ধান্তগুলো সমালোচনার উদ্রেক ঘটায়। আসন্ন দু’একটি সিরিজে মিরাজ যদি সফল হতে না পারেন, তবে শান্তই হতে পারেন তার বিকল্প। এখন শান্ত আবারও এই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবেন কি-না, সেটা নিয়েই থেকে যায় সংশয়।

তবে এ কথা নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায়, পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ থেকে শুরু করে, আগামী দুই-তিনটি সিরিজ হতে চলেছে মিরাজের লিটমাস টেস্ট। তিনি প্রত্যাশামাফিক পারফরম করতে না পারলে, তার উপর থেকে অধিনায়কত্বের চাপ কমানোর বিষয়টি হয়ত বিবেচনা করবে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট।











