মিরাজ ততটাও খারাপ অধিনায়ক নন

বাংলাদেশ জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলে মিরাজ নেই। তাই বলে যে তিনি একেবারেই অচল টি-টোয়েন্টিতে এমন ভাবনা দৃষ্টিকোণের বিষয়।

প্রশ্ন উঠেছে মেহেদী হাসান মিরাজের অধিনায়কত্ব নিয়ে। এখন অবধি দ্বাদশ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে, চার ম্যাচের দুইটি হেরেছে সিলেট টাইটান্স, দুইটিতে পেয়েছে জয়ের দেখা। আপাতদৃষ্টিতে খুব একটা খারাপ সময় কাটাচ্ছেন অধিনায়ক মিরাজ, তা বলার উপায় অবশ্য নেই। যদিও প্রশ্নটা ভিন্ন জায়গায়, টি-টোয়েন্টি একাদশে প্রতিটি ম্যাচেই মিরাজের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে একটা সংশয় রয়েছে বটে।

গত বছর, খুলনা টাইগার্সের হয়ে পুরো মৌসুম অধিনায়কত্ব করেছিলেন মিরাজ। এর আগে সর্বপ্রথম ২০১৯ সালে রাজশাহী কিংসের দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি পুরো আসরজুড়ে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে ১২ ম্যাচের ছয়টি জিতেও প্লে-অফে দলকে নিয়ে যেতে পারেননি মিরাজ।

তবে গত আসরে তার দল খুলনা টাইগার্স ছিল শিরোপার দৌড়ে। তার দলের ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এক সেঞ্চুরি তিন হাফসেঞ্চুরিতে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৫১১ রান। ১৪৪ স্ট্রাইকরেট ও প্রায় ৪৩ গড়ে তিনি পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ছিলেন ধারাবাহিক। নিজেকে ব্যাটিং অর্ডারে প্রোমোট করে ৩৫৫ রান মিরাজও করেছিলেন বটে। কিন্তু ২৭.৩০ গড়, তার অধারাবাহিকতার পরিচায়ক।

তার দলের মধ্যে উইকেট শিকারির তালিকায় ১৭ উইকেট নিয়ে সবার উপরে ছিলেন আবু হায়দার রনি। ১৪ উইকেট নিয়ে হাসান মাহমুদ দ্বিতীয়, ১৩ উইকেট নিয়ে নাসুম আহমেদ ছিলেন তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। মিরাজের ঝুলিতেও ছিল ১৩ উইকেট। মোদ্দাকথা দলগত পারফরমেন্সের কল্যাণেই দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার অবধি পৌঁছাতে পেরেছিল খুলনা টাইগার্স।

এর আগে ২০১৯ সালে রাজশাহী কিংসের হয়েও ছয় ম্যাচ জিতেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ছয় ম্যাচ হেরেছিলেন অবশ্য। সেবার অবশ্য বলার মত তেমন কিছুই করতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। স্রেফ ১৩.৬৬ গড়ে ১২৬ রান নিতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। স্ট্রাইকরেট ছিল ১১৬। এছাড়া ১২ ম্যাচে ১১ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি অধিনায়ক হিসেবে।

ততদিন অবধি মিরাজের বোলার সত্ত্বাই বিকশিত হয়েছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া আরও দুইটি মৌসুমে মোট ছয়টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন মিরাজ। যেখানে ছয় ম্যাচের চারটিতে পরাজয় বরণ করেছিলেন তিনি। অতএব বিপিএলে এখন পর্যন্ত ৩৬ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে, ১৭ ম্যাচ জিতেছেন হেরেছেন ১৯ ম্যাচ।

কোন শিরোপা জেতাতে না পারলেও নেয়াহেত একেবারেই মন্দ অধিনায়ক তিনি নন। তার ব্যাটিং পজিশন কি হবে সেটা নিয়ে সংকোচ সৃষ্টি হলেও, টপ অর্ডারই হতে পারে তার জন্য আদর্শ। কেননা টপ অর্ডারেই তিনি সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছেন। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে বল হাতে দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি মিরাজের মধ্যে অনুপস্থিত। সেটাই বরং দুশ্চিন্তা বাড়ায়, কন্ডিশন বিবেচনায় তাকে একাদশে রাখা উচিত কি-না সে প্রসঙ্গ টেনে আনে।

অতএব অধিনায়ক হয়ে ওঠার আগে মিরাজকে আগে হয় উঠতে হবে পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার। নতুবা অধিনায়কত্ব বারবার প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। তাছাড়া মাঠে তার নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হওয়াও স্বাভাবিক। অধিনায়ক হিসেবে তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেবেন, যা কাজ করলে প্রশংসা কুড়াবে, ফেল করলে সমালোচিত হবে। সেদিক থেকেও মিরাজকে হতে হবে দৃঢ়চেতা।

বাংলাদেশ জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলে মিরাজ নেই। তাই বলে যে তিনি একেবারেই অচল টি-টোয়েন্টিতে এমন ভাবনা দৃষ্টিকোণের বিষয়। তবে গত মৌসুমেই মিরাজ প্রমাণ করেছেন তিনি অধিনায়ক কিংবা খেলোয়াড় হিসেবে ততটাও মন্দ নন।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link