এ যেন পেশাদারিত্বের চূড়ান্ত উদাহরণ

পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই নিজেকে নম্রতা ও ভদ্রতার এক আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার মিসবাহ উল হক। মাঠের বাইরেও যে তিনি কতটা সৎ ও নিষ্ঠাবান তাই যেন আরও একটিবার জানান দিলেন। 

ক্রিকেট মাঠে যেমন ভদ্রলোকের খেলা হিসেবে সুপরিচিত, মাঠের বাইরেও ঠিক তেমনটাই। পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই নিজেকে নম্রতা ও ভদ্রতার এক আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার মিসবাহ উল হক। মাঠের বাইরেও যে তিনি কতটা সৎ ও নিষ্ঠাবান তাই যেন আরও একটিবার জানান দিলেন।

পিএসএলের এইবারের আসরে পেশোয়ার জালমির ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন মিসবাহ। স্বাভাবিকভাবেই নিলামের দিন দলের টেবিলেই দেখা মেলে তার।

নিলাম চলাকালীন সময়ে এক পর্যায়ে তালিকায় নাম আসে মিসবাহর ছেলে ফাহাম উল হকের। যে পাকিস্তানের বিভিন্ন ঘরোয়া লিগ ও বয়সভিত্তিক দলে ইতোমধ্যেই অনেকের নজর কেড়েছেন। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখনো ওতটা পরিপক্বতা দেখাতে পারেননি।

সেই প্রেক্ষিতে কোনো ফ্র‍্যাঞ্চাইজিই তার প্রতি আগ্রহ দেখায়নি। তবে সবাই ভেবেই নিয়েছিল মিসবাহ বোধহয় নিজের ছেলেকে দলে নিবেন। অন্য কোন দল আগ্রহ না দেখালেও হয়তো বাবার কল্যাণে পিএসএলে জায়গা করে নিবেন ফাহাম।

কিন্তু এখানেই যেন পেশাদারিত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মিসবাহ। একদিকে পিতৃত্বের মায়া, অন্যদিকে পেশাদারিত্বের সততা। তিনি দ্বিতীয়টিকেই বেছে নিলেন। ফলে নিলাম থেকে অবিক্রীতই রয়ে গেলেন ফাহাম।

স্বজনপ্রীতির এই যুগে, যেখানে নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রিয়জনকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়াটা এক অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে মিসবাহ দেখালেন কীভাবে আবেগকে যুক্তির নিচে রাখতে হয়।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link