বিখ্যাত-কুখ্যাত সেই চান্দিকা হাতুরুসিংহের শরণাপন্ন হয়েছেন মুমিনুল হক সৌরভ। অবাক হওয়ার মতই ঘটনা। সুদূর অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে গিয়ে হাজির হয়েছেন মুমিনুল। সেখানেই তিনি হাতুরুসিংহের সাথে করবেন অনুশীলন। অথচ একটা সময়ে মুমিনুলের ঘোর সমালোচক ছিলেন লঙ্কান সেই কোচ।
নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে শেষ হয়েছিল চান্দিকা হাতুরুসিংহের অধ্যায়। তবে দেশের ক্রিকেটে এখনও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাননি লঙ্কান এই কোচ। মুমিনুলের হাত ধরে তিনি যেন আবারও এলেন আলোচনায়।
এই মুহূর্তে মুমিনুল হকের কাছে করার তেমন কিছুই নেই। ঘরোয়া অঙ্গনে হচ্ছে না কোন টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ দল ব্যস্ত এশিয়া কাপের মিশনে। একমাত্র টেস্ট খেলুড়ে ব্যাটার হিসেবে মুমিনুলের তাই কাটছিল অলস সময়।

অলসতাকে দূরে ঠেলে মুমিনুল হক ছুটে গেছেন অস্ট্রেলিয়াতে। হাতুরুসিংহের তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করবেন বা-হাতি এই ব্যাটার। প্রায় তিন সপ্তাহে ১২টি সেশনে হাতুরুসিংহে দিবেন মুমিনুলকে দীক্ষা।
অথচ একটা সময় হাতুরু সমালোচনার বাণে বিদ্ধ করেছিলেন মুমিনুলকে। বা-হাতি এই ব্যাটারের শর্ট বল দূর্বলতা ছিল চোখে পড়ার মত। লঙ্গার ফরম্যাটে এই দূর্বলতা বেশ ভোগাতে পারে একজন ব্যাটারকে, সর্বোপরী একটা দলকে। সে কারণে হাতুরুসিংহে মুমিনুলকে দল থেকেও ছাটাই করেছিলেন। শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশের শততম টেস্টের একাদশ থেকে জায়গা হারান মুমিনুল। চান্দিকা হাতুরুসিংহে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখেও পড়েন সেই সময়।
কিন্তু, সেসব পুরনো কেচ্ছা-কাহিনী পেছনে ফেলে মুমিনুল ঠিকই নিজের উন্নতির কথা ভেবেছেন। যেহেতু চান্ডিকা হাতুরুসিংহের অধীনে দীর্ঘদিন খেলেছেন মুমিনুল হক, সেহেতু বা-হাতি এই ব্যাটারের দূর্বলতা বা শক্তিমত্তা সম্পর্কে বেশ ভালভাবেই অবহিত আছেন লঙ্কান কোচ।

ঠিক সে কারণেই স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্যে হাতুরুর সান্নিধ্য পেতে উড়ে গেছেন মুমিনুল হক। হাতে থাকা সময়ের পূর্ণ ব্যবহার। টিকে থাকার লড়াইয়ে ইগোর বিসর্জন দেওয়াই তো বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু যতটা জলঘোলা হয়েছে হাতুরুর বিদায়কে ঘিরে, তা মোটেও ছিল না ইতিবাচক। মুমিনুল কি হতে পারেন তবে প্রশ্নের সম্মুখীন?











