নতুন বলে দানবীয় সিরাজ!

আহমেদাবাদের শান্ত সকালে ঝড় হয়ে এলেন মোহাম্মদ সিরাজ। তাঁর একেকটা বল বজ্রপাত হয়ে আছড়ে পড়ল ক্রিজে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা বাধ্য হলেন আত্মাহুতি দিতে। নতুন বল হাতে এই দানবীয় সিরাজকে যে সামলানো যায় না, তা প্রমাণ হলো আরও একবার।

আহমেদাবাদের শান্ত সকালে ঝড় হয়ে এলেন মোহাম্মদ সিরাজ। তাঁর একেকটা বল বজ্রপাত হয়ে আছড়ে পড়ল ক্রিজে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা বাধ্য হলেন আত্মাহুতি দিতে। নতুন বল হাতে এই দানবীয় সিরাজকে যে সামলানো যায় না, তা প্রমাণ হলো আরও একবার।

প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং নিলেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক রস্টন চেজ, আর ওটাই যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে এলো ব্যাটারদের জন্য। যার কারিগর সিরাজ।

তিনি যেন বল নয়, একেকটা আগুনের গোলা ছুড়ছিলেন। গতি, বাউন্স আর নিখুঁত লাইন-লেন্থ—তিন জিনিসের মিশ্রণে তৈরি করলেন এক মরণফাঁদ। প্রথম সেশনেই তুলে নিলেন চার-চারটা উইকেট। এর মধ্যে নিজের করা প্রথম ২৪ বলে নিলেন তিনটি! ইনিংস শেষে তাঁর ঝুলিতে ৪০ রানে ৪ উইকেট—সংখ্যাটা খুব সাধারণ মনে হলেও নতুন বলে তাঁর সৃষ্টি করা ত্রাস ভিন্ন কিছুর কথা বলে।

প্রথমের ওই ধাক্কা সামলাতে না পেরে ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইনআপ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে গেল মাত্র ১৬২ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভাঙার সঙ্গে সিরাজ ভাঙলেন আরও এক রেকর্ড।

অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ককে পেছনে ফেলে এবছরের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে এখন সিরাজ।  ৭ ম্যাচে তাঁর শিকার এখন ৩১ উইকেট। স্টার্ক থেমে আছেন ২৯-এ। সংখ্যার এই হিসাব স্পষ্ট বলে দিচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটে সিরাজের আধিপত্য বিস্তারের গল্প।

এই সিরাজকে শুধু সংখ্যায় মাপা যায় না। চাপের ম্যাচ, বড় মুহূর্ত, বড় প্রতিপক্ষ—সবকিছুতেই তাঁর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে অন্য এক রূপ। প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেন আগুনে গতি আর নিখুঁত সুইং দিয়ে। নতুন বলে প্রতিপক্ষকে তছনছ করেন প্রতিবারই, প্রতিটি ডেলিভারিতে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link