মুশফিকুর রহিম একটা সময় সমালোচিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার পারফরমেন্স অসন্তুষ্টির বীজ বপন করেছিল। সেই বীজ থেকে বটবৃক্ষ হওয়ার আগেই অবশ্য তিনি ছেড়ে দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটটি। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মুশফিক যেন এক ভিন্ন চরিত্র। টি-টোয়েন্টি মেজাজ বুঝে খেলা এক ভীষণ কার্যকর ব্যাটার, ডানহাতি মুশফিক।
এখন পর্যন্ত বিপিএলের সবগুলো আসরেই অংশ নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তবে শঙ্কা জেগেছিল দ্বাদশ আসরে হয়ত তাকে দেখা যাবে না। কিন্তু সেই শঙ্কা উড়িয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স তাকে দলে ভিড়িয়েছে। ভিত্তিমূল্য ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি নিজ বিভাগের বিপিএল দলে জায়গা করে নিয়েছেন।

৩৮ বছর বয়সী একজন ব্যাটারকে দলে নিয়ে রাজশাহী সম্ভবত ভুল করল- এমন সংকোচ বরং ঝেড়ে ফেলাই শ্রেয়। কেননা বিপিএলে মুশফিকুর রহিম অন্যতম সফল ব্যাটারদের একজন। তার নামের পাশে রয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। ৩৪৪৬ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। মুশফিকুর রহিম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সার্কিটে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন মূলত স্ট্রাইকরেটের কারণে।
অথচ বিপিএল ইতিহাসে সেরা পাঁচ রান সংগ্রাহকদের মধ্যে মুশফিকের স্ট্রাইকরেটই সবচেয়ে বেশি। ১৩১.৫২ স্ট্রাইকরেটে রান তুলেছেন ডানহাতি মুশফিক। বলে রাখা ভাল তার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে স্ট্রাইকরেট ১১৫ এর একটু বেশি। তাছাড়া বিপিএলে প্রায় ৩৮ গড়ে রান এসেছে মুশফিকের ব্যাট থেকে। বিশ্ব ক্রিকেটে সে সংখ্যা মাত্র ১৯.৪৮।

এমনকি উইকেটের পেছনেও মুশফিক দারুণ কার্যকর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০৭টি ডিসমিসালের সাথে জড়িত থেকেছেন বর্ষীয়ান এই ক্রিকেটার। অতএব বিপিএলের প্রেক্ষাপটে মুশফিকুর রহিম যেকোন ফ্রাঞ্চাইজির জন্য এক বিশাল বড় সম্পদ। পারফরমেন্স ছাড়াও, তার অভিজ্ঞতা এখানে বিশাল বড় এক ফ্যাক্টর। সুতরাং মুশফিককে নিয়ে দ্বিধার ধুম্রজাল সৃষ্টি করা পুরোপুরি অনর্থক।











