বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন রিশাদ হোসেন। সেসবের তোয়াক্কা না করে, উইকেটের মাঝে ফোন দিয়ে ভিডিও রেকর্ডিং করছিলেন মুশতাক আহমেদ। শীষ্যের বোলিং অ্যাকশনের ভিডিও করলেন তিনি। একবার নয়, বেশ কয়েকবার, কয়েকটি ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে। মূলত রিশাদের বল রিলিজ থেকে ল্যান্ডিংয়ের সমস্যা নিরসনের জন্যেই কোচের এমন নিবেদন।
মুশতাক আহমেদ পাকিস্তানের কিংবদন্তি স্পিনার। বাংলাদেশের স্পিনারদের দীক্ষা দেওয়ার দায়িত্বে তিনি নিযুক্ত আছেন বেশ লম্বা সময় ধরেই। এই সময়ে তিনিও নিশ্চয়ই আন্দাজ করে ফেলেছেন, রিশাদ হোসেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যে ঠিক কত বড় সম্পদ। শুধু এই মুহূর্তের জন্যে নয়, টাইগার ক্রিকেটে লেগ স্পিনারদের ভবিষ্যত অনেকটাই নির্ভর করে আছে রিশাদের উপর।
তাইতো মুশতাক আহমেদ কোনভাবেই অন্ধকার গলিতে হারিয়ে যেতে দিতে চাননা রিশাদকে। সে কারণেই যত ভুলত্রুটি আছে তিনি তা শুধরে দেওয়ার ব্রত নিয়েই নেমেছেন। কাজের সুবিধার জন্যে তিনি প্রায় ঝুঁকি নিয়ে শীষ্যের বোলিং অ্যাকশনের ভিডিও করেছেন সামনে থেকে। হাত থেকে বল ফসকালেই ঘটত পারত দূর্ঘটনা। কিন্তু সেসবে নেই মুশতাকের কোন ভ্রুক্ষেপ।

তিনি তাৎক্ষনিকভাবে রিশাদের ভুলের সমাধান করতেই নিয়েছেন এমন ঝুঁকি। ঠিক যেমনটি হওয়ার কথা একজন পিতৃতুল্য কোচের। রিশাদের রিলিজ পয়েন্ট আর ল্যান্ডিং- এই দুইয়ের মধ্যে হচ্ছিল সামান্য গড়মিল। আর্ম সুইং থেকে শুরু করে কোথায় রিশাদের আরেকটু জোর দিতে হবে সেসবই যেন বাতলে দিতে চাইছিলেন। তবে ভুলগুলো দেখিয়ে দিলে সমাধান করা সহজ হয়।
সে কারণেই মুশতাক ভিডিও করলেন রিশাদের বল ছোড়ার পুরো প্রক্রিয়া। এরপর অনুশীলন নেটের পাশে নিয়ে গিয়ে দেখিয়েছেন তা রিশাদকে। বুঝিয়েছেন ঠিক কোথায় তার ভুল হচ্ছে। এরপর রিশাদ অবশ্য আবার নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
প্রতিবারই বল ছুড়ে তাকিয়েছেন কোচের দিকে। সন্তুষ্টি না মেলা পর্যন্ত বোলিং অনুশীলন চালিয়ে গেছেন রিশাদ হোসেন। এ কারণেই তো আয়োজিত হয়েছে সিলেটের এই স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্যাম্প।












