মুস্তাফিজুর রহমান, আধুনিক ক্রিকেটের ‘রিসার্চ ম্যাটেরিয়াল’

সত্যিকার অর্থেই তো মুস্তাফিজ 'স্পেশাল', তার বোলিংকে বিশেষণের শব্দগুচ্ছে আটকে রাখা দুষ্কর। মুস্তাফিজের নিজস্ব কাটার করার ধরণের নাম হয়েছে 'মুস্তাফিজ স্পেশাল'।

একটা প্রশ্ন করি, বলুন তো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে ধারাবাহিকভাবে পারফরম করা বোলার কে? এক, দুই, তিন! তিন সেকেন্ডের মধ্যে নিশ্চয়ই আপনার মাথায় বহু নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু সকল নামের ভীড়ে একটা নামই জ্বলজ্বল করার কথা, মুস্তাফিজুর রহমান। বর্তমান সময়ে তার থেকে কার্যকরি টি-টোয়েন্টি বোলার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। দুবাই থেকে সিলেট- সর্বত্র তিনি নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করে যাচ্ছেন।

পেস বোলার হিসেবে কব্জির ব্যবহার এতদিন অবধি শুধু স্লোয়ার বলের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতেন গোটা বিশ্বের পেসাররা। কিন্তু মুস্তাফিজ যেন প্রতিনিয়ত এক রিসার্চ ম্যাটেরিয়ালে পরিণত হচ্ছেন। তার বোলিং নিয়ে হয় নানামুখী কাটাছেড়া। এই যেমন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মুস্তাফিজের নিজস্ব কাটার করার ধরণের নাম হয়েছে ‘মুস্তাফিজ স্পেশাল’।

সত্যিকার অর্থেই তো মুস্তাফিজ ‘স্পেশাল’, তার বোলিংকে বিশেষণের শব্দগুচ্ছে আটকে রাখা দুষ্কর। তাইতো ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে অ্যালান উইকিন্স বলে বসেন, ‘ডোন্ট ট্রাই দিস এট হোম, ইট মাইট ডিসলোকেট ইউর রিস্ট’। ব্যাখ্যাতীত কাটারের মোহনীয় ধুম্রজালে তিনি ব্যাটারদের ঘোরের অসীম দুনিয়ায় ঠেলে দিতে পারেন অনায়াসে।

যেমনটি তিনি করে যাচ্ছেন এবারের বিপিএলে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যাটাররা বুঝেই উঠতে পারলেন না মুস্তাফিজের ধূর্ততা, মুস্তাফিজের স্পেশালিটি। তিনখানা ব্যাটার পড়েছেন তার ফাঁদে। চার ওভারে ১৮ রান খরচা করেছেন তিনি। দাঁড়িয়ে ছিলেন হ্যাটট্রিকের দ্বারপ্রান্তে।

ধারাবাহিকভাবে তিনি এই কাজটা করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ১২টি উইকেট বাগিয়েছেন বিপিএলে। নিদেনপক্ষে দশ উইকেট শিকার করা বোলারদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে কৃপণ। রান খরচে হিসেবী মুস্তাফিজের ইকোনমি রেট, ৬.৫২। বিপিএলের আগে আইএল টি-টোয়েন্টিও ঠিক একইভাবে মাতিয়ে এসেছিলেন মুস্তাফিজ।

নিজের অভিষেক মৌসুমে ৮ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১৫টি উইকেট। রান খরচ তার ওভারপ্রতি ৮.০৮ হারে। সেখানেও তিনি বন্দনায় ভেসেছেন, দুবাই ক্যাপিটালসের জার্সি গায়ে দারুণ ছন্দের ছাপ ফেলে এসেছেন। গত বছর জুড়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০ ম্যাচে ২৬ উইকেট বাগিয়েছেন ৬.০৬ ইকোনমি রেটে।

তার এমন দুর্ধর্ষ ফর্মের কারণেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি দাম উঠেছিল মুস্তাফিজের। পাকিস্তান সুপার লিগ তাকে নিজেদের টুর্নামেন্টে পেয়ে খুশির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সেখানেও যে তার কদর থাকবে আকাশচুম্বী- সেটা অনুমেয়। স্রেফ চাওয়া একটাই বিশ্বকাপে এই মুস্তাফিজের হাত ধরেই আসুক বাংলাদেশের সফলতা।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link