প্রথম বলেই উইকেট। এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে সেদিকুল্লাহ অটল, যিনি আজকাল টপ অর্ডারে আফগানিস্তানের প্রাণ ভোমরা। প্রথম ওভারটা উইকেট মেইডেন। প্রথম সাতটা বল ডট, প্রথম তিনওভারে শেষে রান দিলেন মাত্র সাতটি, উইকেট পেলেন দুটি।
তাঁর বাঁ-হাতি স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে ফিরে গেছেন ইব্রাহিম জাদরান। শেষ ওভারে দিলেন মাত্র চার রান। সেই ছয়টা বল তিনি করলেন ডেথ ওভারে। একদম ১৮ তম ওভারে। নাসুম আহমেদর বাঁ-হাতি স্পিনের সামনে কোনো জবাবই ছিল না আফগানিস্তানের।
আট রানের ম্যাচ জয় নিশ্চিত করেছেন মুস্তাফিুজর রহমান কিংবা রিশাদ হোসেন। কিন্তু, জয়ের এই ক্ষেত্রটা তৈরি করে দিয়ে গেছেন নাসুম আহমেদ। ২৪ বলের মধ্যে ১৬ টাই ডট। মানে পুরো স্পেলের ৬৬ শতাংশ ডেলিভারিই ডট দিয়েছেন নাসুম আহমেদ। কাজটা সহজ ছিল না। কারণ, আবুধাবির কন্ডিশনে প্রচুর ঘামছিলেন নাসুম আহমেদ। সেটা তাঁকে বল গ্রিপ করতে ঝামেলায় ফেলছিল।

নাসুম ম্যাচ শেষে নিজেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে বললেন, এই চ্যালেঞ্জটা তিনি উপভোগ করেছেন। চ্যালেঞ্জ ছিল প্রতিপক্ষ বিবেচনা করেও। আফগানিস্তান দল সব সময় বাঁ-হাতি স্পিনের বিপক্ষে দূর্বল। কিন্তু, বাংলাদেশের স্কোয়াডে একমাত্র বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম।
তার ওপর তিনি আগের দু’টো ম্যাচ খেলেননি। প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেই কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়ে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া মুখের কথা নয়। সেই কঠিন কাজটা পেরেছেন নাসুম আহমেদ। বাইরের সকল সমালোচনার জবাবটা মাঠেই দিতে পারলেন।
এশিয়া কাপের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগেই অকারণে স্যোশাল মিডিয়ায় সমালোচিত হয়েছেন। বাবার সাথে তাঁর সম্পর্ককে জড়িয়ে অনেক গালগল্প ফাঁদা হয়েছিল। নাসুম মুখে তেমন কিছু বলেননি। জবাবটা জমা রেখেছিলেন মাঠের জন্য। সেই জবাবটা তিনি দিতে পেরেছেন। বাংলাদেশের স্বপ্ন বাঁচিয়েছেন।











