বাবর-রিজওয়ান যুগ ছাপিয়ে, পাকিস্তান ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়!

বিশ্ব ক্রিকেটে পাকিস্তান কখনও রোমাঞ্চকর, কখনও আবার অপ্রত্যাশিতভাবে হতাশ। তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই নতুন অধ্যায় কি সত্যিই দলটির ইতিহাসে নতুন সূর্যোদয় নিয়ে আসবে, নাকি পুরোনো অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে?

পাকিস্তান ক্রিকেটের শুরুর দিকটা ছিল রোমাঞ্চকর, তবে বর্তমানে যে শূন্যতা চলছে, তা যেন ক্রমেই আরও স্পষ্ট হয়েছে। গত কয়েক বছরে একে একে সামনে এসেছে বেশ কিছু সংকট—টিম কম্বিনেশন, ফরম্যাটের ব্যবধান, এবং তার পরিসমাপ্তি এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তায়। সেই শূন্যতার মাঝে, যখন একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে দানা বাঁধছিল অস্থিরতা, তখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কি অবশেষে নিজেদের পা মাটিতে স্থির করতে শুরু করেছে?

১৬ মার্চ থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হতে চলা সাদা বলের সিরিজটি পাকিস্তানের জন্য এক নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত হতে পারে। কিংবা সবকিছু আগের মতোই রয়ে যাবে—সম্ভবত  করুণ কাহিনিতে পরিণত হবে। ক্রিকেট মাঠে চলতে থাকা বাজে সময়, সাম্প্রতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হার, সব মিলিয়ে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে, এই মুহূর্তে পিসিবি যেন ভেঙে নতুন করে সাজানোর তাগিদ অনুভব করেছে, আর তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে উঠিয়ে আনছে তরুণদের। যারা হয়তো একদিন দেশকে শীর্ষে পৌঁছে দেবে।

টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে বাবর আজম আর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বাদ দেওয়া, এমনকি শাহীন আফ্রিদি আর হারিস রউফকে ওয়ানডে দলে জায়গা না দেওয়া, এসব সিদ্ধান্তের মাঝে দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মনে প্রশ্ন উঠেছে—এই কি পাকিস্তান ক্রিকেটের সত্যিকার নতুন অধ্যায়? একসময় এই স্কোয়াড ছিল সবার চোখে একটি আস্থার ঠিকানা, তবে এখন সে অস্থিরতার ছাপ পড়েছে দলটির প্রতিটি দিকেই।

বাবর আর রিজওয়ান, যাদের নিয়ে ছিল অতিমাত্রায় বিশ্বাস—তাদের বাদ দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত কেন? এমনকি অধিনায়কত্বের সীটেও পরিবর্তন এসেছে। আঘা সালমান, যিনি টিমের অন্যতম বড় দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, সাদাব খানকে দেওয়া হয়েছে তার ডেপুটি। সাদাব গত বছরটায় ব্যাট হাতে ছিলেন অপ্রত্যাশিত, বোলিংতেও খুঁজে পাওয়া যায়নি সেই পুরোনো ধাঁর, তাকে আস্থার প্রতীক হিসেবে কী ভাবে দেখা যাবে?

এখন অবশ্য দলের শক্তি খুঁজে পেতে তরুণদের দিকে দৃষ্টি রেখেছে পিসিবি। মোহাম্মদ হ্যারিস, হাসান নেওয়াজ, আব্দুল সামাদ, ওমাইর ইউসুফ—এই নতুন প্রজন্ম যেন পাকিস্তান ক্রিকেটের নতুন উন্মেষ হতে পারে। তাদের মধ্যে রয়েছে দুর্দান্ত সম্ভাবনা, যা একদিন হয়তো বড় মঞ্চে পুরো দলকে আলোতে নিয়ে আসবে। কিংবা বিপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে যারা জাতীয় দলের ডাক পেয়েছে যেমন-  জাহানদাদ খান, উসমান খান, খুশদিল শাহরা কি টিমের ব্যর্থতার অভিশাপ কাটিয়ে চূড়ান্ত সফলতা এনে দিতে পারবে?

বিশ্ব ক্রিকেটে পাকিস্তান কখনও রোমাঞ্চকর, কখনও আবার অপ্রত্যাশিতভাবে হতাশ। তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই নতুন অধ্যায় কি সত্যিই দলটির ইতিহাসে নতুন সূর্যোদয় নিয়ে আসবে, নাকি পুরোনো অন্ধকারেই নিমজ্জিত হবে?

 

Share via
Copy link