পাকিস্তানের সিরিজ শুরুটা একদমই মন মত হয়নি। রাওয়ালপিন্ডিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৫৫ রানের বিশাল হারে মুখ থুবড়ে পড়েছে বাবর আজমের দল। ঘরের মাঠে এমন লজ্জাজনক পরাজয়ের পর এখন সিরিজে টিকে থাকার একটাই রাস্তা — লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচ জেতা। তাই এখন সবার চোখ একাদশে — কারা থাকবেন, কারা বাদ পড়বেন, কেমন দেখাবে পাকিস্তানের পরবর্তী লড়াইয়ের লাইনআপ?
প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটিং ছিল দুর্বল, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেউই জ্বলে উঠতে পারেননি। সায়িম আয়ুব কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন, নওয়াজ বল হাতে ভালো করলেও তাতে লাভ হয়নি। তাই ব্যাটিং অর্ডারেই বদলের ইঙ্গিত সবচেয়ে স্পষ্ট। হাসান নওয়াজের জায়গাটা এখন সবচেয়ে ঝুঁকিতে।
টানা নয় ইনিংসে তাঁর রান ১১৩, গড় মাত্র ১২.৫৬—এই পরিসংখ্যান একজন মিডল-অর্ডার ব্যাটারের জন্য মোটেও মানানসই নয়। সাত ইনিংসে একক সংখ্যায় আউট হওয়া যেন তাঁর জায়গাটা নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে। দলের ভেতরে কথাবার্তা চলছে, হয়তো তাঁর পরিবর্তে জায়গা পেতে পারেন আব্দুল সামাদ—যিনি পাওয়ার হিটার হিসেবে পরিচিত এবং লেট অর্ডারে প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেন দ্রুত। পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে এমন একজনেরই তো এখন দরকার!

বোলিংয়ে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। নাসিম শাহ প্রথম ম্যাচে তিন ওভারে ৩৪ রান দিয়ে মাত্র এক উইকেট নিয়েছিলেন, তবে তাঁকে এক ম্যাচের পারফরম্যান্সে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। পেছনে বিকল্প হিসেবে মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র থাকলেও টিম ম্যানেজমেন্ট এখনো নাসিমের উপরই ভরসা রাখছে। কিন্তু আরেকটি ম্যাচে ব্যর্থ হলে তাঁর জায়গাটিও ঝুঁকিতে পড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
অন্যদিকে, বাবর আজম ও শাহীনে আফ্রিদিকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বাবর প্রথম ম্যাচে দুই বলে শূন্য রানে ফেরেন, শাহীনে চার ওভারে ৪৫ রান দিয়ে এক উইকেট নেন, কিন্তু তারা দুজনই পাকিস্তানের স্তম্ভ। বিশ্বমানের এই দুই ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া মানে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া। বরং দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের উপরই থাকবে পুরো দলের প্রত্যাশা—বাবরের কাছ থেকে এক নেতৃত্বপূর্ণ ইনিংস, আর শাহীনের কাছ থেকে নতুন বলে ভয় জাগানো স্পেল।
সালমান আলি আগা অধিনায়ক হিসেবে রয়ে যাচ্ছেন একাদশে। তাঁর সাথে ব্যাটিং ওপেন করবেন শাহিবজাদা ফারহান ও সাঈম আয়ুব। বাবর আসবেন তিনে, তারপর আগা, আর উইকেটরক্ষকের ভূমিকায় থাকবেন উসমান খান। মিডল অর্ডারে সুযোগ পেতে পারেন আব্দুল সামাদ, আর নিচের সারিতে থাকবেন নাওয়াজ ও ফাহিম আশরাফ — দুজনই ব্যাটে-বলে ভারসাম্য আনেন। বোলিং ইউনিটে থাকবে শাহীনে, নাসিম শাহ, আর স্পিনে আবরার আহমেদ।

সুতরাং পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ দাঁড়াচ্ছে এমন — শাহিবজাদা ফারহান, সায়িম আয়ুব, বাবর আজম, সালমান আলী আঘা (অধিনায়ক), উসমান খান (উইকেটরক্ষক), আব্দুল সামাদ, মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, শাহীন আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও আবরার আহমেদ।










