আরও এক বড় মঞ্চ, আরও এক ব্যর্থতার গল্প। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিরোধই গড়তে পারল না, প্রবল স্রোতের সামনে খড়কুটোর মতো স্রেফ ভেসে গেল। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালই হয়ে থাকল এক মূল্যহীন অর্জনের গল্প। দাপুটে নিউজিল্যান্ড হেসে খেলে নয় উইকেটে হারাল প্রোটিয়াদের।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে আফ্রিকার বিরুদ্ধে কখনো জেতা হয়নি কিউইদের। সেই আক্ষেপটা ঘোচানোই যেন প্রথম লক্ষ্য ছিল তাদের। তার উপর আবার সেমির মঞ্চ। টস জিতে প্রোটিয়াদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় নিউজিল্যান্ড। সিদ্ধান্তটাকে শতভাগ সঠিক প্রমাণ করতে উঠে-পড়ে লাগলেন কোল ম্যাককনচি। পরপর দুই বলে তুলে নিলেন কুইন্টন ডি কক এবং রায়ান রিকেলটনকে। আফ্রিকার রান তখন মোটে ১২।
ওই ধাক্কা সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ৩৪ রানের প্রতিরোধ আসে ডিওয়াল্ড ব্রেভিসের ব্যাট থেকে। তবুও চালকের আসন দখল করে ছিল নিউজিল্যান্ডই। তবে সময় তো আর সরলরেখায় চলে না। মার্কো ইয়ানসেন সেটা চলতে দিলেন না। বিপদে বুক চিতিয়ে লড়াই করলেন, খেললেন ৫৫ রানের এক অমূল্য ইনিংস। ওটার কল্যাণেই গড়পড়তা স্কোর ছাপিয়ে ১৬৯ রানের লড়াকু পুঁজি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ইডেন গার্ডেন্স যেন মনোরম পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল ব্যাটারদের জন্য। প্রোটিয়ারা ঠিকঠাক ফায়দা তুলতে না পারলেও ভুল করেনি ব্ল্যাক ক্যাপসরা। শুরু থেকেই এক ধ্বংসের খেলায় যেন নামল দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট এবং ফিন অ্যালেন। দুজনের সামনে খড়কুটোর মতোই ভেসে যেতে থাকল আফ্রিকার বোলিং লাইনআপ। অ্যালেন বিস্ফোরক আর সেইফার্ট সুযোগসন্ধানী, দুজনের জুটি থেকেই বেরিয়ে এলো ১১৭ রান, তাও আবার নয় ওভারে।
তাতেই এই ম্যাচে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না আফ্রিকার জন্য। সেইফার্ট ৫৮ রানে ফিরে গেলেও অ্যালেনের ঝড় থামানো গেল না কোনোভাবেই। শেষমেষ তাঁর ব্যাট থেকে আসে শ্বাসরুদ্ধকর এক শতক। তাতেই ৪৩ বল আর নয় উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ বাগিয়ে নিল নিউজিল্যান্ড।
অসহায় তাকিয়ে শুধু লিখে গেল আরেকটা ব্যর্থতার গল্প। চোকার্স তকমার প্রতি আরও একবার সুবিচার করল তারা। অন্যদিকে আফ্রিকাকে বিশ্বমঞ্চে হারিয়ে নিজেদের আক্ষেপ ঘোচাল নিউজিল্যান্ড। ফাইনালে পা রাখল সবার আগে, এবার অপেক্ষাটা প্রতিপক্ষের জন্য।












