ক্রিকেটে নতুন দ্বৈরথ, সুরিয়াভানশি বনাম সামির

ফাইনালের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পাকিস্তানি ওপেনার সামির মিনহাস। অন্যদিকে টুর্নামেন্ট শুরু আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন ভারতীয় ওপেনার বৈভব সুরিয়াভানশি। আসর জুড়ে অনবদ্য ব্যাটিংয়ের জন্য ব্যাপক আলোচনা তৈরি হচ্ছে তাদের নিয়ে।

ভারতের বৈভব সুরিয়াভানশি না পাকিস্তানের সামির মিনহাস, কে এগিয়ে আছেন ভবিষ্যতের দৌড়ে? অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপ শেষে সেই আলোচনা এখন তুঙ্গে।

সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ফিরে তাকাতে হয় পুরো টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যানে। ফাইনালের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পাকিস্তানি ওপেনার সামির মিনহাস। অন্যদিকে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন ভারতীয় ওপেনার বৈভব সুরিয়াভানশি। আসর জুড়ে অনবদ্য ব্যাটিংয়ের জন্য ব্যাপক আলোচনা তৈরি হচ্ছে তাদের নিয়ে।

দুবাইয়ের আইসিসি একাডেমিতে ফাইনাল ম্যাচটা কেবল একটি ট্রফির লড়াই ছিল না, ছিল ভবিষ্যতের দুই সম্ভাব্য সুপারস্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষ। একদিকে ভারতের বিস্ময়বালক বৈভব সুরিয়াভানশি, অন্যদিকে পাকিস্তানের নির্ভার অথচ ভীষণ দৃঢ় সামির মিনহাস। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের গল্প যেমন একপেশে হলো, আলোচনার কেন্দ্রও দখল করে নিলেন এই দুই তরুণ ব্যাটার।

ফাইনালের দিনটা পুরোপুরি সামির মিনহাসের। ১১৩ বল মোকাবিলা করে ১৭২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেই কার্যত ম্যাচটা ভারতের হাত থেকে ছিনিয়ে নেন তিনি। পাকিস্তানের ইনিংস যত এগিয়েছে, ততই বেড়েছে ভারতের হতাশা।

চাপের মুহূর্তে একাই স্কোরবোর্ডকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন, যেখান থেকে আর ফেরার সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে বৈভব সুরিয়াভানশি খেলেছেন ১০ বলে ২৬ রানের ঝলমলে ক্যামিও—সংক্ষিপ্ত, আক্রমণাত্মক, কিন্তু ম্যাচের গতিপথ বদলানোর মতো দীর্ঘ নয়।

টুর্নামেন্ট শেষ হলেও বিতর্ক থামেনি। বরং প্রশ্নটা আরও জোরালো হয়েছে—ভবিষ্যতের দৌড়ে কে এগিয়ে, ভারতের বৈভব না পাকিস্তানের সামির? উত্তর খুঁজতে তাকাতে হয় পুরো আসরের পরিসংখ্যানের দিকে। পাঁচ ইনিংসে ১৫৭ গড়ে ৪৭১ রান করে টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটার সামির মিনহাস।

স্ট্রাইক রেট ১১৭-এর একটু বেশি হলেও তার ইনিংসগুলো ছিল সময়ের দাবি মেটানো, চাপ সামলানো আর দলকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার গল্প। বিপরীতে সুরিয়াভানশি পাঁচ ইনিংসে করেছেন ২৬১ রান, গড় ৫২.২, আর স্ট্রাইকরেট চোখ ধাঁধানো ১৮২.৫২। সংখ্যাগুলোই বলে দেয়—একজন ম্যাচ গড়েছেন ধারাবাহিকতায়, আরেকজন ঝড় তুলেছেন গতিতে।

বৈভব সুরিয়াভানশির গল্পটা যেন রূপকথার মতো। মাত্র ১৪ বছর বয়সে আইপিএলে অভিষেকে প্রথম বলেই ছক্কা, এরপর ৩৮ বলে সেঞ্চুরি করে ইতিহাসের পাতায় নাম। প্রতিভা, সাহস আর আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে তিনি ভবিষ্যতের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার নাম। বয়সটাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি; সামনে শেখার, নিজেকে গড়ে নেওয়ার সময় অবারিত।

অন্যদিকে সামির মিনহাসের পথচলা ধীর, কিন্তু গভীর। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে তিনি তৈরি হয়েছেন ধীরে ধীরে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম যুব ওয়ানডেতেই অপরাজিত ১৭৭ রান, সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে দায়িত্বশীল ইনিংস, আর ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১৭২ রানের মহাকাব্য—সবচেয়ে বড় মঞ্চগুলোতেই নিজের সেরা পারফরম্যান্সটাই দিয়েছেন তিনি। এখানেই তাঁর আলাদা শক্তি ধরা পড়ে।

সব মিলিয়ে বিতর্কটা সহজ নয়। সুরিয়াভানশির জনপ্রিয়তা, বিস্ফোরক ব্যাটিং আর বয়সভিত্তিক সম্ভাবনা যেমন ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো, তেমনি অনূর্ধ্ব উনিশ এশিয়া কাপ ২০২৫-এর কথা বললে শিরোপা নির্ধারণী মুহূর্তে আলোটা কেড়ে নিয়েছেন সামির মিনহাসই। প্রতিভা আর সম্ভাবনার সঙ্গে বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই তো জন্ম নেয় আসল তারকা। এই টুর্নামেন্টে সেই গল্পটাই লিখে গেলেন সামির।

 

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link