ব্রাজিলিয়ান সাম্বার সেই ছন্দ, সেই চিরচেনা জাদুকরী ড্রিবলিং যেন আবারও অনিশ্চয়তার মেঘে ঢাকা পড়ছে। আসন্ন ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁর প্রাথমিক তালিকায় নেইমার জুনিয়রকে রেখেছেন ঠিকই, কিন্তু চূড়ান্ত স্কোয়াডে তাঁর জায়গা পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়।
কাগজে কলমে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা খুবই কম। তারপরও তাঁকে ব্রাজিল দল রেখেছে কেবলই বিশ্বাসের ওপর ভর করে। নেইমার কিংবা তাঁর শরীর কি সেই ভরসার প্রতিদান দিতে পারবে?
দীর্ঘ বিরতির পর নেইমারের ফেরার অপেক্ষায় যখন প্রহর গুনছে ভক্তরা, ঠিক তখনই আবারও বাগড়া দিল মাংসপেশির চোট। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম হতে জানা গেছে, মিরাসলের বিপক্ষে সান্তোসের হয়ে মাঠে নামার কথা ছিল নেইমারের। কিন্তু নতুন করে চোট অনুভব করায় সেই ম্যাচে আর নামা হচ্ছে না তাঁর। সান্তোস কর্তৃপক্ষ তাঁকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অথচ এই ম্যাচটি হতে পারত নেইমারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। ডাগআউটে বসে খোদ আনচেলত্তি তাঁর শারীরিক সক্ষমতা পরখ করতে চেয়েছিলেন। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়া মানে নেইমির জাতীয় দলে ফেরার পথটি এখন অনেকটাই বন্ধুর।

কোচ আনচেলত্তি শুরু থেকেই একটি বিষয়ে আপসহীন। জাতীয় দলে জায়গা পেতে হলে পূর্ণ ফিটনেস বাধ্যতামূলক। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শেষবার হলুদ জার্সি গায়ে জড়ানো নেইমারের বর্তমান বয়স ৩৪। বয়সের ভার আর চোটের প্রবণতা এখন তাঁর জাতীয় দলে ফেরাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে জোড়া গোল করে প্রত্যাবর্তনের আভাস দিলেও, মাঠের লড়াইয়ে যেন কোনোক্রমেই নিয়মিত হতে পারছেন না তিনি।
পরবর্তী ম্যাচে করিন্থিয়ানসের বিপক্ষে সান্তোসের হয়ে শেষবারের মতো নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাবেন নেইমার।তবে সেই ম্যাচেও যদি ইঞ্জুরিটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে এ যাত্রায় হলুদ জার্সি গায়ে নেইমারের অধ্যায় বোধহয় ইতোমধ্যেই পরিসমাপ্ত।
বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে ১১ জুন। তার আগে মে মাসেই চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবে ব্রাজিল। ২৬ মার্চ ফ্রান্স এবং পহেলা এপ্রিল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দুটিই হতে পারত নেইমারের ছন্দ ফিরে পাওয়ার মোক্ষম মঞ্চ। তবে মাঝে আবারও চোট যেন কাল হয়ে দাঁড়াল।
প্রশ্নটা এখন, করিন্থিয়ানসের বিপক্ষে আগামী ম্যাচ কি নেইমারের জন্য কোনো অলৌকিক ভোরের সূর্য নিয়ে আসবে? নাকি চোটের এই ধূসর গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাবেন ব্রাজিলিয়ান এই ফুটবল শিল্পীর শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চ রাঙানোর সম্ভাবনাটাও? উত্তরটা তোলা রইল সময়ের হাতে।











