​অতীতের হাহাকার ডিঙিয়ে নেইমারের বিশ্বকাপ তপস্যা

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেই হারের পর চার বছর পেরিয়ে গেলেও নেইমারের স্মৃতির পটে সেই রাতটি এখনো রক্তক্ষরণ ঘটায়। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় তিনি যেন নিজের হৃদয়ের গহীন ক্ষতগুলোই মেলে ধরলেন।

​ফুটবল কখনো কখনো নিছক খেলার চেয়েও বেশি কিছু হয়ে দাঁড়ায়। কখনো হয়ে ওঠে ট্র্যাজেডি কখনো পুনর্জন্মের এক মহাকাব্য। ব্রাজিলিয়ান জাদুকর নেইমার জুনিয়রের জীবনে কাতার বিশ্বকাপের সেই বিদায় ছিল তেমনই এক বিষাদসিন্ধু। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেই হারের পর চার বছর পেরিয়ে গেলেও নেইমারের স্মৃতির পটে সেই রাতটি এখনো রক্তক্ষরণ ঘটায়। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় তিনি যেন নিজের হৃদয়ের গহীন ক্ষতগুলোই মেলে ধরলেন।

​নেইমারের ভাষায়, সেই পরাজয়ের পর হোটেলে ফিরে যখন তিনি তাঁর সতীর্থদের লাল হয়ে যাওয়া চোখের স্তব্ধতা দেখেছিলেন, তখন পুরো পৃথিবীটা তাঁর কাছে থমকে গিয়েছিল। নেইমার বলেন, ‘পরিবেশটা এতটাই থমথমে ছিল যে, মনে হচ্ছিল আমি একটা কফিনের ভেতরে শুয়ে আছি আর সবাই আমাকে দেখতে আসছে। আমি নিজেই নিজের শেষকৃত্য দেখছি।’

সেই দু:সহ ট্রমা কাটিয়ে নেইমার এখন তাকিয়ে আছেন আগামীর পানে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে। হাতে সময় মাত্র মাস দুয়েক। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েও গত বছরের অক্টোবর থেকে লিগামেন্টের চোটের কারণে জাতীয় দলের হলুদ জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত নেইমারের।

স্কোয়াডের ২৪টি আসন নিশ্চিত হয়ে গেলেও বাকি থাকা শেষ দুটি আসনের একটির জন্য নেইমারের দিকে নজর সবার। আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উত্তরাধিকার বা তারকাখ্যাতি নয়, কেবল ‘শতভাগ ফিটনেসই’ হবে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে প্রবেশের মূল চাবিকাঠি।

তবে আশার কথা হলো, নেইমারের লড়াকু মানসিকতায় মুগ্ধ কোচও। তিনি মনে করছেন, নেইমার সঠিক পথেই আছেন এবং তাঁর আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে আসার সামর্থ্য প্রশ্নাতীত

​আগামী ১১ জুন যখন উত্তর আমেরিকার সুবিশাল প্রেক্ষাগৃহে ফুটবলের মহাবৈশ্বিক উৎসবের পর্দা উঠবে, তখন ‘সি’ গ্রুপের লড়াইয়ে ব্রাজিলের সঙ্গী হবে মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি। কোটি ভক্তের মনে এখন একটাই জিজ্ঞাসা – নেইমার কি পারবেন বিষাদপুরী ভেঙে ফিনিক্স পাখির মতো ডানা মেলে মেক্সিকো বা আমেরিকার আকাশে উড়তে? নাকি ইনজুরির হানায় ব্রাজিলিয়ান সাম্বার শেষটাও হবে সাদা-কালো?

হয়তো শেষবারের মতো নেইমার ফিরছেন, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই এক প্রলয়ংকরী ঝড়ের পূর্বাভাস নিয়ে। তপ্ত মরুভূমির সেই স্তব্ধতাকে তিনি এবার মেক্সিকোর ঘাসের গালিচায় সাম্বার গর্জনে রূপ দিতে বদ্ধপরিকর। জাদুকরের শেষ তূণ থেকে তীর নিক্ষেপ যে এখনো বাকি!

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link