ড্রাফট নয়, নিলামের পথে পিএসএল!

বদলে গেল পাকিস্তান সুপার লিগের(পিএসএল) রূপরেখা। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে যে পিএসএল ড্রাফট পদ্ধতির ওপর ভর করে দল গঠন করে এসেছে, সেই পরিচিত কাঠামোতেই এবার ছেদ টানা হলো। এছাড়াও থাকছে একাধিক নতুন নিয়ম, যা পিএসএলের দশম আসরকে নিয়ে বাড়িয়ে দিয়েছে কৌতূহল ও আলোচনা।

বদলে গেল পাকিস্তান সুপার লিগের(পিএসএল) রূপরেখা। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে যে পিএসএল ড্রাফট পদ্ধতির ওপর ভর করে দল গঠন করে এসেছে, সেই পরিচিত কাঠামোতেই এবার ছেদ টানা হলো। এছাড়াও থাকছে একাধিক নতুন নিয়ম, যা পিএসএলের দশম আসরকে নিয়ে বাড়িয়ে দিয়েছে কৌতূহল ও আলোচনা।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন, পিএসএলে ‘রাইট টু ম্যাচ’ বা আরটিএম অপশন পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। এতদিন এই নিয়মের কারণে দলগুলো নিলামে হারানো খেলোয়াড়কে আবার ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেত। নতুন নিয়মে সেই দরজা পুরোপুরি বন্ধ।

পাশাপাশি, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আর কোনো মেন্টর বা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দিতে পারবে না। একসময় শোয়েব মালিক, ওয়াসিম আকরাম, মিসবাহ-উল-হকের মতো কিংবদন্তিদের উপস্থিতিতে যে ভূমিকা আলাদা মাত্রা যোগ করেছিল পিএসএলে, সেই অধ্যায়েও এবার টান পড়ল।

খেলোয়াড় রিটেনশনের নিয়মেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। আগে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ আটজন খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারত। এর সঙ্গে যুক্ত থাকতেন একজন মেন্টর ও একজন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। চাইলে আরটিএম অপশন ব্যবহার করে নবম খেলোয়াড় ধরে রাখার সুযোগও ছিল। কিন্তু নতুন কাঠামোতে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ চারজন খেলোয়াড়ই রিটেন করতে পারবে। তাও আবার চারটি আলাদা ক্যাটাগরি থেকে একজন করে।

তবে এখানেই শেষ নয়। আটটি বিদ্যমান দলই সরাসরি একজন করে বিদেশি তারকা ক্রিকেটার দলে ভেড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। শর্ত একটাই, ওই ক্রিকেটার যেন ২০২৫ সালের পিএসএলের দশম আসরে অংশ না নিয়ে থাকেন। ফলে আইপিএল ২০২৬ না খেলে পিএসএলে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া ফাফ ডু প্লেসিস কিংবা মঈন আলীর মতো অভিজ্ঞ তারকারা এই বিশেষ চুক্তির আওতায় আসতে পারেন। এতে করে পিএসএলে আন্তর্জাতিক তারকাদের উপস্থিতি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এবারের আসরে যুক্ত হচ্ছে দুটি নতুন দল, সিয়ালকোট ও হায়দরাবাদ। নতুন এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্যও রাখা হয়েছে আলাদা সুযোগ। নিলামের আগে তারা খেলোয়াড়দের পুল থেকে চারজন করে ক্রিকেটার বেছে নিয়ে রিটেন করতে পারবে। পাশাপাশি, অন্যান্য দলের মতো তারাও এমন একজন বিদেশি খেলোয়াড় সরাসরি সাইন করার সুযোগ পাবে, যিনি ২০২৫ পিএসএলে খেলেননি।

খেলোয়াড় কেনার ক্ষমতা বাড়াতে বাড়ানো হয়েছে দলগুলোর বেতন বাজেটও। আগে যেখানে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির স্যালারি পার্স ছিল ১২ লাখ মার্কিন ডলার, নতুন নিয়মে তা বাড়িয়ে ১৬ লাখ ডলার করা হয়েছে। ফলে বড় নামের ক্রিকেটারদের নিয়ে প্রতিযোগিতা এবার আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

ড্রাফটের বাইরে নতুন নিয়ম, কম রিটেনশন, বড় বাজেট আর নতুন দলের সংযোজন, সব মিলিয়ে পিএসএলের দশম আসর হতে যাচ্ছে একেবারেই নতুন মোড়কে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link