ড্যারিল মিচেল যেন ভারতের জন্য এক অশনি সংকেত। সর্বশেষ চার ওয়ানডে ইনিংসে তিনটিতেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ব্ল্যাকক্যাপস ব্যাটার। এদিন রাজকোটে তো তিনি লিখে দিলেন ভারতের পরাজয়ের অধ্যায়। ইতিহাস গড়ে সিরিজ ফিরিয়ে আনলেন ১-১ সমতায়। ভারতের জন্য বাড়িয়ে দিলেন দুশ্চিন্তা।
ভারতের নীল জার্সির বিপক্ষে কিউই ব্যাটার ড্যারিল মিচেল যেন এক আলাদা ধ্যান-ধারণা নিয়ে ব্যাটিং করতে নামেন। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিধর দলের বিরুদ্ধে নিজের সামর্থ্য প্রদর্শনের চাইতে প্রশান্তির আর দ্বিতীয় কোন উৎস হয়ত নেই। ভারতের দেওয়া ২৮৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা মোটেও সহলভ্য কোন লক্ষ্য ছিল না। তবুও সেই টার্গেটকে সহজ বানিয়ে ফেলেছেন মিচেল একাহাতে।
একটা প্রান্ত থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ১৩১ রানে থেকেছেন অপরাজিত। ১১৭ বলের ইনিংসে ১১ খানা চার ও স্রেফ দুইটি ছক্কায় বেশ অবলীলায় দলকে নিয়ে তিনি পৌঁছে যান জয়ের বন্দরে। এদিন টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে ভারত। রোহিত শর্মা, শুভমান গিলের উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহের আভাস মিলছিল।

তবে সময়ের পরিক্রমায় ভারতীয় ব্যাটাররা খেই হারান। তিন উইকেট তুলে নিয়ে ক্রিস্টান ক্লার্ক চাপে ফেলে দেন ভারত শিবিরকে। লোকেশ রাহুলের লড়াকু ১১২ রানের অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে ২৮৪ অবধি পৌঁছাতে সক্ষম হয় টিম ইন্ডিয়া। দলের স্বীকৃত ব্যাটারের প্রায় প্রত্যেকেই ইনিংসের শুরুতে দৃঢ়তা প্রদর্শন করলেও, কেউ-ই সেই অর্থে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেননি।
জবাব দিতে নেমে নিউজিল্যান্ড দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ে ম্যাচ হারের শঙ্কা জাগিয়েছিল বটে। কিন্তু এরপরই বেশ ধৈর্য্য ও একাগ্রতা নিয়ে ব্যাটিংটা চালিয়ে যেতে থাকেন ব্ল্যাকক্যাপস ব্যাটাররা। যার নেতৃত্বে ছিলেন ড্যারিল মিচেল। উইল ইয়ং লম্বা সময় তাকে সঙ্গ দিয়ে যান। দুই জনের মিলে ১৬২ রানের জুটি গড়েন।
৮৭ রানে ইয়ং আউট হলেও দলকে কক্ষচ্যুত হতে দেননি ড্যারিল মিচেল। শেষদিকে গ্লেন ফিলিপসের খানিকটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ১৫ বল বাকি থাকতেই জয় এনে দেয় নিউজিল্যান্ডকে। ভারতের মাটিতে এটিই নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড, সাত উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জমিয়ে তুলেছে নিউজিল্যান্ড।












