লজ্জার সর্বোচ্চ শিখরে এখন অবস্থান করছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। এতটাই উচ্চতায় পৌঁছেছেন, যেখানে তাদের নাগাল পাওয়াটা দুষ্কর। হতাশা, ব্যর্থতা কিংবা সমালোচনা, তারা যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৯১ রান করতে না পারা অবিশ্বাস্য নয়, বরং খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।
এদিন বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা বেশ ভালোই ছিল। আফগান ব্যাটারদের পর্যদুস্ত করেছিলেন তানজিম সাকিব, রিশাদ হোসেনরা। তবে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক ইব্রাহিম জাদরানের ৯৫ রানের ইনিংসে ভর করে ১৯০ রান স্কোরবোর্ডে তোলে আফগান শিবির।
অল্প রান দেখে বাংলাদেশ বোধহয় তৃপ্তির ঢেকুরটা একটু বেশিই তুলে ফেলেছিল। প্রথম ম্যাচ হারার ক্ষত মুছে ফেলার জন্য আদর্শ মঞ্চ পেয়েছিলেন মিরাজরা। তবে তার স্বদব্যবহার করা তো দূরের কথা, স্রেফ অপব্যবহার করলেন সুযোগটা। ব্যাটাররা ব্যস্ত হলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। ফেরার জন্য বোধহয় বাড়িতে তাড়া ছিল তাদের।

যার সূত্রপাত তানজিদ হাসান তামিমের ছেলেমানুষীতে। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরলেন সাজঘরে। নাজমুল শান্তও নিজেকে বিলিয়ে দিলেন রান আউটে কাটা পড়ে। সাইফ হাসানের ব্যাটে সম্ভাবনার আলো নিমিষেই শেষ হয়ে গেল অপ্রয়োজনীয় এক শটে।
দায়িত্ব পড়ল অধিনায়ক মিরাজের কাঁধে। দলকে ঠিকঠাক পথ দেখানো তো দূরের কথা, ফেলে দিয়ে এলেন অন্ধকারে। জাকের আলী, নুরুল হাসান সোহানরাও বুঝে উঠতে পারলেন না নিজেদের উইকেটের মর্ম।
আর শেষটাতে রাশিদ খানের ঘূর্ণী জাদুতে কুপোকাত হলেন নিচের দিকের ব্যাটাররা। শেষপর্যন্ত ২৮.৩ ওভারেই ১০৯ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ। মামুলি টার্গেট তাড়া করতে নেমে হারের ব্যবধানটা দাঁড়াল ৮১ রানের।

অথচ এই টার্গেটটা চেজ করতে হলে আহামরি কিছুই করার দরকার ছিল না। দরকার ছিল না প্রতিপক্ষ বোলারকে সেচ্ছায় উইকেট বিলিয়ে নিজেদের লজ্জার সাগরে ডুবিয়ে দেওয়ার। তাই তো দিনশেষে প্রশ্ন আসে, এভাবে আর কত?











