বাংলাদেশ ক্রিকেট দলটা এখন অন্তঃসারশূন্য। আত্মবিশ্বাস, মানসিকতা সব কিছুই ঠেকেছে একেবারে তলানিতে গিয়ে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী? উত্তরটা, সাকিব আল হাসান।
রূপকথার জগৎ থেকে তুলে আনা রুপার কাঠি কিংবা সোনার কাঠি সাকিব নন। বয়সটা আটকে রাখা যায়নি তাঁর। বাস্তবিক অর্থে ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে দাঁড়িয়ে আছেন এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই ঠিকই। তবে সাকিবের কাছে যা আছে সেটাই হতে পারে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর চাবিকাঠি।
প্রতিপক্ষের চাপিয়ে দেওয়া চাপের বলয় ভেদ করে বেরিয়ে আসার মন্ত্র ভালো মতোই জানেন সাকিব। জানেন কীভাবে ভেস্তে দিতে হয় বিপক্ষ দলের পরিকল্পনা। সাকিবের উর্বর ক্রিকেটীয় মস্তিষ্ক তাই বাংলাদেশের জন্য এখন বড্ড বেশি প্রয়োজন।

তবে এখানেই শেষ নয়, সাকিবকে দরকার পড়বে দলের সাহস জোগাতে। দলকে ভরসা দেওয়া, বিপদকালীন পরিস্থিতিতে সবাইকে আগলে রাখা, জয়ের তাড়না নিয়ে লড়াই করা। সাকিব-পরবর্তী সময়ে এসবের ঘাটতি স্পষ্ট ছিল। অভিজ্ঞতার ছায়াতল তাই বাকিদের জন্য হতে পারে এক আশ্রয়স্থল।
এবার আসা যাক পারফরম্যান্সের আলাপনে। বয়স বেড়েছে, ফর্মে মরিচা ধরেছে। তবে প্রচলিত আছে, মরা হাতির দামও লাখ টাকা। সাকিবকে তাই উপেক্ষা করার উপায় নেই এখানেও।
সাকিব খেলার মধ্যে রয়েছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে নিজের স্বভাবজাত পারফরম্যান্স দেখাতে না পারলেও কম্পিটিশনে টিকে থাকার জন্য ভালো মার্কস তুলেছেন সবখানে। ব্যাটিংটা নিয়ে শঙ্কা আছে কিছুটা। আগের মতো লম্বা সময় ব্যাট করার ধৈর্য কিংবা সহ্যশক্তি কোনোটাই নেই তাঁর। তবে চলনসই।

আর সাকিব বরাবরই বোলিং করেন বুদ্ধি খাটিয়ে, নিজেই অনেকবার বলেছেন, বোলিং নিয়ে তাঁর চর্চার দরকার পড়ে না। তাই তো এই সেক্টরে তাঁকে ভরসা করা যায় চোখ বন্ধ করে।
সবমিলিয়ে এটা ঠিক যে প্রাইম টাইমের সাকিবকে পাওয়া যাবে না কখনোই। তবে এখনও যতটুকু তাঁর মধ্যে আছে সেটা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুঃসময়টা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।











